সিসিটিভির নজরদারিতে মহানগর || স্বাগত রাসিককে, যেতে হবে আরো দূর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৭, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) গুরুত্ব বেড়েছে দেশ জুড়ে। দেশের অনেক বড় বড় চাঞ্চল্যকর হত্যা, সংঘর্ষ, ছিনতাই, অগ্নিসংযোগ, চুরি ইত্যাদি ঘটনার ক্লু উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সিসিটিভি। স্বাভাবিকভাবে এর প্রয়োজনীয়তা ও গ্রহণযোগত্য ক্রমশই বাড়ছে। সরকারি- বেসরকারি অফিসে, বিপণী-বিতান কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি সংযুক্ত হচ্ছে। খুব সম্প্রীতি নগীরর একটি ক্লিনিক থেকে এক সদ্যজাত চুরি গেলে সিসিটিভি থেকেই তার ক্লু উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ফলে চুরির সাথে জড়িত এক নারীকে পুলিশ গ্রেফতার ও চুরি যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে। ওই নারী পুলিশের রিমান্ডে সদ্যজাত চুরির কথা স্বীকার করেছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিরাপদ নগর ও জননিরাপত্তার সুরক্ষায় সিটিভির সংযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নগরীর ১৭ টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি সংযুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবার সেগুলোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও হয়েছে। নগরভবন সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই স্থানগুলোতে ৬৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে।
উদ্বোধন করতে গিয়ে পুলিশ কমিশনার যথার্থই বলেছেন যে, সিসিটিভির পর্যবেক্ষণে অপরাধী ধরা পড়বে, এর ফলে অপরাধ প্রবণতা কমবেÑ একই সাথে নগরীর ট্রাফিক জ্যামও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস দেন।
রাজশাহীকে শান্তির নগরী বলতেই আমরা স্বস্তি বোধ করি। কিন্তু দিন দিন নানাভাবেই রাজশাহীর গুরুত্ব বাড়ছে। এই শহরে আগের চাইতে অর্থনৈতিক লেনদেন বাড়ছে, দেশের বিভিন্ন স্থানের সাথে রাজশাহী যোগাযোগ- সম্পর্কও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ আর্থ-সামাজিক দ্বন্দ্বের অবস্থানটিও পরিবর্তিত হচ্ছে। আর এটা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এই দ্বন্দ্ব যত প্রকট হবে ততই সাঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টিতে নতুন নতুন উপাদান তৈরি হবে। ফলে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির আশংকা থেকেই যায়। এ ক্ষেত্রে সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ এখন থেকেই নিলে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে পারে। আগামী ৫, ১০, ২০ কিংবা ৫০ বছর পর রাজশাহীকে কীভাবে আমরা দেখতে চাই তার একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নিশ্চয় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভাববে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে আমরা প্রশংসা করি যে, তারা নগরীর আইন-শৃঙ্খলা সুরক্ষায় নজর দিয়েছে। নগরীর ১৭ টি স্থানে সিসিটিভির সংযুক্তি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবে এখানেই থেমে থাকার সুযোগ নেই। আরো সিসিটিভি সংযোজনের প্রয়োজন আছে। প্রয়োজন আছে নাগরিকদের সচেতন করার জন্য কর্মসূচি। যাদের সামর্থ আছে তারও যেন তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভির ব্যবহার সে ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি প্রয়োজন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ