সিসিটিভি ফুটেজে দুই নিরাপত্তা প্রহরীর সন্দেহজনক গতিবিধি লিপু হত্যা মামলায় রুমমেট জেলহাজতে

আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০১৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

গ্রেফতারকৃত মনিরুল
রাবি প্রতিবেদক
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যা মামলায় তার রুমমেট মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) অশোক চৌহান জানান, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল রোববার সকালে মনিরুলকে লিপু হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আবদুল লতিফ হলের ডাইনিং এর পাশ থেকে লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথার ডান পাশে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন আছে। ওই আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। লাশ উদ্ধারের পর ওইদিন সন্ধ্যায় লিপুর চাচা বশির আলী বাদী হয়ে হত্যামামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লিপু যে রাতে হত্যার শিকার হন ওই রাতে নবাব আবদুল লতিফ হলের গেটের সিসিটিভি ফুটেজে হলে দায়িত্বরহ দুই নিরাপত্তা প্রহরী মো. মনির ও সাইদুর রহমানের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা গেছে। লিপুর লাশ উদ্ধারের পর হল প্রশাসনের কাছ থেকে ওই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে দেখছে পুলিশ। ওই দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে প্রথমদিন থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর পরদিন ছেড়ে দেয়া হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক দেখায় তাদের আবার থানা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে ওই দুই নিরাপত্তা প্রহরী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
লিপুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লিপুর রুমমেট মনিরুল ইসলাম, লিপুর বন্ধু প্রদীপ ও হলের দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। তিনদিন জিজ্ঞাসবাদ শেষে গতকাল সকালে মনিরুলকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লিপুর বন্ধু প্রদীপকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নবাব আবদুল লতিফ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, লিপুর লাশ উদ্ধারের পর লিপুর একটি স্যান্ডেল তার রুমের ভেতরে এবং আরেকটি লাশ উদ্ধারের জায়গায় পাওয়া যায়। আর রুমের সামনে দুইজোড়া জুতা পাওয়া যায়। যা লিপু বা তার রুমমেটের নয়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, রুমের মধ্যে অথবা রুমের সামনে কিছু একটা ঘটেছিল।
এদিকে লিপুর বাবা বদর উদ্দিন জানিয়েছেন, রুমমেট মনিরুল ইসলামের সঙ্গে লিপুর ভালো সম্পর্ক ছিল না। তিনি মুঠোফোনে জানান, এক রুমে থাকলেও লিপুর সঙ্গে তার রুমমেটের খুব কম কথা হতো। লিপুর মা বলেছেন, তাদের দুজনের মধ্যে সম্প্রতি কথা বন্ধ হয়েছিল। তিনি লিপুর রুমমেট মনিরুলের সঙ্গে কথা বলে ঠিকঠাক করে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু মনিরুল কথা বলতে চায় নি। তবে কি কারণে তাদের মধ্যে কথা বন্ধ হয়েছিল তা জানেন না লিপুর মা।
মোতালেব হোসেন লিপু বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি হলের ২৫৩ নম্বর কক্ষে থাকতেন। লিপু ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ডু থানার মকিমপুর গ্রামের বদর উদ্দিনের ছেলে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ