সীতাকুণ্ডে নিহত দুই জঙ্গি ‘জসিমের বোন-দুলাভাই’

আপডেট: মার্চ ১৮, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


সীতাকুণ্ডের প্রেমতলার জঙ্গি আস্তানায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত জঙ্গিদের মধ্যে দুজন নামার বাজার থেকে গ্রেপ্তার জঙ্গি জসিমের আত্মীয় বলে ধারণা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বলেন, প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’ নামের ওই বাড়িতে নিহত চার জঙ্গির মধ্যে দুই জন জসিমের আপন বোন ও দুলাভাই বলে তারা তথ্য পেয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “ছায়ানীড়ে নিহত অন্য দুজন ঢাকার মিরপুর থেকে নিখোঁজ দুই খালাতো ভাই বলে ধারণা করছি।তবে ডিএনএ টেস্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
গতবছর অগাস্টে মিরপুরের মনিপুর থেকে আহমেদ রাফিদ আল হাসান ও আয়াদ হাসান খান নামের দুই তরুণ ঘরছাড়া হলে মিরপুর থানায় জিডি করে পরিবার। দুই খালাতো ভাই বাড়িতে চিরকুটে ‘নিজেদের পথ খুঁজে পাওয়ার’ কথা লিখে গিয়েছিলেন বলে সে সময় সংবাদমাধ্যমে খবর আসে। তবে পুলিশ সীতাকুণ্ডের ঘটনায় তাদেরই সন্দেহ করছে কি না- তা নিশ্চিত করেননি পুলিশ সুপার।
তিনি জানান, জঙ্গি জসিম সীতাকুণ্ড পৌরসভার নামার বাজারে ‘সাধন কুটির’ ভবনের নিচতলার বাসা ভাড়া নেয়ার সময় তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার রামুতে বলে জানিয়েছিলেন। আর তার কিছুদিন আগে প্রেমতলার ‘ছায়ানীড়’ ভবনের নিচ তলার বাসাটি ভাড়া নেয়ার সময় দুই পুরুষের একজনও তার বাড়ি কক্সবাজারের রামুতে বলে বাড়িওয়ালাকে জানায়।
ওই বাড়ির মালিকের ছেলে মহিউদ্দিন জানান, বাড়ি ভাড়া নিতে আসা দুই পুরুষ নিজেদের ‘শালা-দুলাভাই’ পরিচয় দিয়েছিল।
নূরে আলম বলেন, “জসিম ও তার স্ত্রী এবং জসিমের বোন ও তার স্বামী কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা হতে পারেন। কয়েকটি নাম ও কিছু তথ্য আমরা জেনেছি। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা সম্ভব না।”
‘সাধন কুটিরে’ বাসা ভাড়া নেয়ার সময় জসিম তাদের সঙ্গে থাকা এক যুবক ও এক কিশোরকে তার স্ত্রীর বড় ও ছোট ভাই বলে পরিচয় দেন জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, বুধবার সকালে একটি ল্যাপটপ ও কিছু জিনিসপত্র নিয়ে সাধন কুটির থেকে ওই দুইজন বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ছায়ানীড়ে নিহতদের মধ্যে তারা আছে কি না- তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
‘সাধন কুটির’ এর মালিক সুভাষ চন্দ্র দাশ জানান, দুইজনের মধ্যে একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোর। অন্যজনের বয়স ২৫-২৬। তার মুখে অল্প দাড়ি ছিল।
‘পুলিশ নিয়ে মরতে চেয়েছিল জঙ্গিরা’
এদিকে ছায়ানীড়ের অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সেদিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই ছিলেন জঙ্গিদের হামলা মূল লক্ষ্য। পুলিশ ও সোয়াট সদস্যদের দিকে কয়েক দফা গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ে ওই জঙ্গিরা।
বুধবার বিকেলে ছায়ানীড় এর ‘জঙ্গি আস্তানা’য় ঢুকতে গিয়ে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে এক পুলিশ পরিদর্শক আহত হন। পরদিন ভোরে অভিযানের সময় দুই সোয়াট সদস্যও আহত হন এক জঙ্গির আত্মঘাতী বোমায়।
অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিসি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন বলেন, সোয়াট সদস্যরা ভবনটির ছাদের ওপর দিয়ে ঢোকার সময় তাদের ওপর আক্রমণ করে জঙ্গিরা।
“আজিমপুর, আশকোনা ও নারায়ণগঞ্জের অভিযানে দেখেছি জঙ্গিরা সুইসাইড ভেস্ট নিয়ে নিজে মরে এবং দুয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও মারতে চায়। ছায়ানীড়ে যে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তার মত এত বড় বোমার বিস্ফোরণ বাংলাদেশে আগে কোথাও দেখিনি। নিজেদের আত্মহত্যার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের হত্যা করাই ছিল তাদের লক্ষ্য।”
ছানোয়ার হোসেন জানান, তারা ওই জঙ্গি আস্তানায় দুটি সুইসাইড ভেস্ট পান ব্যাকপ্যাকের মধ্যে।
“মানে সেগুলো পরিবহনের জন্য প্রস্তুত ছিল। ভবন ও ফ্ল্যাটের এন্ট্রি পয়েন্টে এমনভাবে বোমা ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে কেউ প্রবেশ করতে চাইলে বিস্ফোরণে হতাহত হয়।”
পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারী জঙ্গির দেহে সুইসাইড ভেস্ট বাঁধা ছিল এবং অন্য জঙ্গিরা হাই এক্সপ্লোসিভ বহন করছিল।তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেরা মরবে এবং সঙ্গে সোয়াট সদস্যদের মারবে।”
সেদিন সকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, “আল্লাহু আকবর ধ্বনি দিয়ে জঙ্গিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। সোয়াট সদস্যদের গায়ে অত্যাধুনিক শিল্ড ছিল। কিন্তু প্রথম বিস্ফোরণটি এত ব্যাপক ছিল যে দুই সোয়াট সদস্য ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।”- বিডিনিউজ