সীমান্তে সংকট: মিয়ানমারের ‘ইতিবাচক মনোভাব’ দেখেছেন বিজিবি মহাপরিচালক

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ৯:১৪ অপরাহ্ণ

বিজিবি সদরদপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। ছবি- সংগৃহীত

সোনার দেশ ডেস্ক:


সীমান্তে উত্তেজনা, মাদক পাচার, স্থল মাইন ও বিদ্যুতায়িত কাঁটাতার স্থাপন নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়ে মিয়ানমার ‘ইতিবাচক মনোভাব’ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের সীমান্ত সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হলেও সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণের কথা হয়নি।
গত ২৪ থেকে ২৭ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোয় দুই দেশের অষ্টম সীমান্ত সম্মেলনে অংশ নেয় ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। সম্মেলনের অভিজ্ঞতা জানাতে মঙ্গলবার ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে আসেন বিজিবির মহাপরিচালক।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের ইস্যুগুলো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছি। আর মিয়ানমারের কর্তকর্তারা সেগুলো আমলে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়েও তারা (মিয়ানমার) কাজ করে যাচ্ছেন, আমরা ইতিবাচক ফলের আশা করছি।”
মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি, স্থল মাইন পুঁতে রাখা, বিদ্যুতায়িত কাঁটাতার- এতকিছুর পরেও এবারের সীমান্ত সম্মেলনে মিয়ানমারের ‘ইতিবাচক মনোভাব’ দেখার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ বলেন, “একটা বিষয় নিয়ে যখন আলোচনা হয়, তখন একজন বলে এবং আরেকজন শোনে। যে বলে, সে কিন্তু বুঝতে পারে যে শুনছে তার শোনাটা কেমন। এজন্য বারবার বলছি, আমি তিন পর্যায়ে আমাদের ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলেছি এবং প্রত্যেকটি জায়গায় তারা ধৈর্য্য সহকারে আমার কথা শুনেছে।
“এজন্য বলছি ধৈর্য্য সহকারে শোনা এবং পরবর্তীতে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো এবং আশ্বাস দেওয়া যে তারা এটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করবে। এই পরিবেশ বা এই মনোভাবটা আমি পেয়েছি, তারা আমাদের আশ্বস্ত করছেন যে তারা এই বিষয়টা গ্রহণ করছেন। গ্রহণ করে, এটার ওপর আলোচনা করে এটার ব্যাখ্যা পাওয়া কিন্তু এক ধরণের ইতিবাচক সাড়া। এটা আমরা পেয়েছি।”
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বিজিবি প্রধান বলেন, “প্রত্যাবাসনটা দীর্ঘমেয়াদী একটা প্রক্রিয়া। এটার বিভিন্ন পর্যায় আছে, ধাপ আছে। ‘ভেরিফিকেশন’ থেকে শুরু করে ওপারে যাওয়ার পর তাদের রিসিভ যে করবে এরপর তাদের অস্থায়ীভাবে কোথায় রাখা হবে, তাদের আবাসস্থলে কীভাবে নিয়ে যাওয়া হবেৃ এই পুরো বিষয়টা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। আমার কাছে মনে হয়েছে, তারা এগুলো নিয়ে কাজ করছে।”
২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক মাসে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে এসে আশ্রয় নেয়। আগে থেকে বাংলাদেশে ছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা।
আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি।
২০১৯ সালে দুই দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিবেশ নিয়ে শঙ্কার কথা তুলে ধরে ফিরতে রাজি হননি রোহিঙ্গারা।
এ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন মাসের বেশি সময় ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলির কারণে সীমান্তে অস্থিরতা চলছে। সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের বাসিন্দারাও আতঙ্কে রয়েছেন। মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা গোলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
বিষয়গুলো নিয়ে এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে চারবার তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকায় নিযুক্ত আসিয়ান রাষ্ট্রদূত এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে ব্রিফ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ