সীমান্ত থেকে চার জেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে বিএসএফের নির্যাতন

আপডেট: October 22, 2020, 9:04 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার খরচাকা সীমান্তে পদ্মায় মাছ ধরার সময় চার জেলেকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় তাদের ধরে নিয়ে যায়। তবে বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
বিএসএফের হাতে নির্যাতনের শিকার জেলেরা হলেন, রাজশাহীর পবা উপজেলার গহমাবোনা গ্রামের জমি মোহাম্মদের ছেলে মো. আলম (৪৯), আলমের ছেলে আনোয়ার (২৩), সাইদুর রহমানের ছেলে সিফাত (১৯) ও কসবা গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে সোনারুল (২৮)। তাদের মধ্যে আনোয়ারকে বুধবার রাত ২টার দিকে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
আনোয়ার জানান, বুধবার বিকেলে গহমাবোনার কাছে পদ্মায় মাছ ধরার সময় বিএসএফের সদস্যরা স্পিডবোটে এসে ধরে নিয়ে যায়। তাদের সীমান্তের মধ্যে প্রবেশ করেছি বলে তারা আমাদের নির্যাতন করে। আমাদের লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে তারা আমাদের ছেড়ে দেয়।
পবার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার খরচাকা সীমান্তের বিপরীতে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ওই চার জেলেকে তিনটি নৌকাসহ ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ঢুকে মাছ ধরার কারণে তাদের ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। চার জেলের শরীরের বিভিন্ন অংশে লাঠির আঘাতের চিহ্ন আছে। নির্যাতনের পর বিএসএফ তাদের ছেড়ে দেয়। কিন্তু তাদের দুটি নৌকা রেখে দেয়। জেলেরা বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা বানিয়ে থাকেন। একেকটি নৌকার দাম প্রায় দেড় লাখ টাকা। নৌকা দুটি ফেরত পেলে জেলেদের উপকার হতো।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রাজশাহীর ১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস জিয়াউদ্দিন মাহমুদ জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চারজন জেলেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা বিএসএফের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বেলা ২টার দিকে সীমান্তে পতাকা বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু বৈঠকটি স্থগিত হয়েছে। পরে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পতাকা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। তারা তো এভাবে নির্যাতন করতে পারে না। সীমান্ত অতিক্রম করার প্রমাণ হিসেবে তারা নৌকা দুটি রেখে দিয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ