সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা || ৫০ হাজার পিস চামড়ার মধ্যে ১০ হাজার পিস সংগ্রহ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁ প্রতিনিধি


নওগাঁয় চামড়া সংরক্ষনের কাজে ব্যস্ত শ্রমিকরা-সোনার দেশ

ভারতে চামড়ার দাম বেশি হওয়ায় নওগাঁর সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা । ৫০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ লক্ষ মাত্রার মাত্র ১০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করেছে জেলার ব্যবসায়ীরা। প্রান্তিক পর্যায়ে আরো ৪০ হাজার পিস মজুদ রয়েছে । এসব চামড়া সীমান্ত দিয়ে পাচারের আশঙ্কা করছেন অনেকে । তবে জেলা পুলিশ প্রশাসন বলছে মাঠ পর্যায়ে থাকা চামড়া যেন কোন ভাবেই পাচার না হয় সে লক্ষে পুলিশসহ বিজিবি পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে ।
বকেয়া টানা না পাওয়া লবনের দাম বেশি হওয়ায় এবার নওগাঁ জেলা পর্যায়ে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী চামড়া সংগ্রহ করেছে । গত সোমবার পর্যন্ত জেলায় প্রায় সাড়ে ১০ হাজার পিস গরু এবং ৫ হাজার পিস খাসির চামড়া সংগ্রহ করেছে ব্যবসায়ীরা । এবার জেলায় চামড়া সংগ্রহ লক্ষ মাত্রা ছিল গরু ও মহিষের ৫০ হাজার এবং খাসির ২০ হাজার পিস । কিন্ত এখন পর্যন্ত উপজেলাগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার পিস চামড়া শহরের না আসায় আশঙ্কা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের । ব্যবসায়ীরা বলছেন যেহেতু ভারতে চামড়ার দাম বেশি এ কারণে সীমান্ত গলিয়ে এসব চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কথা হয় চামড়া ব্যবসায়ী আবদুুর রহিম, শরৎ চন্দ্র, আফজাল নামের কয়েক জনের সাথে তারা বলেন, এবার যে দরে চামড়া কেনা হয়েছে ট্যানারী মালিকরা সে দামে আদৌ কিনবে কিনা তা নিয়ে যেমন শঙ্কা আছে সে সাথে লবনের দাম ও অত্যান্ত চড়া । এসব ব্যবসায়ীরা জানান ভারতে যে চামড়ার দাম তা থেকে অনেক কম দরে এখানে চামড়া কেনা যায় । এর ফলে সীমান্ত এলাকাগুলো থেকে চামড়া শহরমুখী নাও হতে পারে। নওগাঁয় ভাল মানের একটি চামড়া সর্বোচ্চ ১ হাজার থেকে ১২শ টাকায় কেনা হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তবে চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থির করে থাকে । তবে এবার তাদের উপস্থিতি কম ছিল ।
নওগাঁ চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডস্ট্রিজের পরিচালক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, গুটি কয়েক ট্যানারী মালিক এ বাজার নিয়ন্ত্রন করে। তারাই সব সরকারি সুযোগ নেয় । অথচ বিপুল সম্ভবনাময় এ শিল্পকে দক্ষ নজরদারী করে বিদেশে ভাল বাজার তৈরি করার সুযোগ রয়েছে । তিনি সরকারকে এ সেক্টরে নজর বাড়ানোর আহবান জানান ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আতাউর রহমান খোকা বলেন, ভারতে একটি খাসির চামড়া আড়াইশ থেকে ৩শ টাকা গরুর চামড়া আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা সেখানে আমাদের দেশে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকায় কেনা চামড়া হয়েছে। এসব চামড়ায় আবার লবনের বড় একটি ব্যায় ধরে ট্যানারীর কাছে দিতে গেলে নানা অজুহাত দেখায় তারা।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোমতাজ হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত ১০ হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করে লবন দেওয়া হয়েছে । আরো ৩০ হাজার পিস চামড়া প্রান্তিক পর্যায়ে রয়েছে । তিনি মাঠ পর্যায়ের এসব চামড়া শহরমুখী করে তুলতে প্রশাসনের নজরদারী কামনা করেন ।
এদিকে নওগাঁর বেশ কিছু ব্যবসায়ী ঢাকার ট্যানারী মালিকদের কাছে প্রায় ১০ কেটি টাকা পাওনা আছে । এসব টাকা দীর্ঘ দিন থেকে অনাদায়ী থাকায় অনেকেই পুঁজি হারিয়ে ভিন্ন পেশায় চলে গেছেন । সব শেষ ২ সেপ্টেম্বর নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খঞ্জনপুর এলাকা চামড়া ব্যবসায়ী আলম তার প্রায় ৫০ লাখ টাকা বকেয়া না পাওয়ায় স্ট্রোক করে মারা যান বলে জানিয়েছে চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মোমতাজ হোসেন ।

নওগাঁর ৪টি উপজেলার ৭ টি পয়েন্ট রয়েছে সীমান্ত লাগোয়া । এসব পয়েন্ট দিয়ে এবার চামড়া পাচার রোধে ব্যপক প্রস্ততি রয়েছে বলছেন জেলা পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন । তিনি বলেন ইতোমধ্যে বিজিবির সাথে কথা বলে সীমান্ত উপজেলাগুলোতে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে ।
চলতি ঈদুল আযহায় নওগাঁয় ৫০ হাজার পিস গরু মহিষ এবং ২৫ হাজার খাসি কোরবানি দিয়েছে । যা গেল বছরের চেয়ে ২০ হাজার পিস কম বলছে প্রানী সম্পদ অফিস।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ