সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ || পাচারকারীদের তথ্য উদঘাটন করা হোক

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা টাকার পরিমাণ এক বছরে ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ বলছে, দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ২০১৫ সালের ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০১৬ সালে ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ হয়েছে।
এ সংক্রান্ত খবর দেশের প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমেই প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে। এখন এটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়েছে এবং বিষয়টি দেশের মানুষের নজর কেড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেগ হয়েছে। আলোচনা- সমালোচনাও কম হচ্ছে না।
সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে ৫৫০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বাংলাদেশিরা সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা করেছেন। এর মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালে জমার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
বিএনপি ইতোমধ্যেই এটিকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ের লোকজন দুর্নীতি ও লুটপাট করে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই অভিযোগ করেন।
বিএনপির এই অভিযোগের অব্যবহিত পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার বিকালে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেছেন, তার দলের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার প্রমাণ পেলে দলীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অর্থপাচারের রেকর্ড আওয়ামী লীগের নেই। বিএনপি বরাবরই অর্থপাচার করে, এটা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত। তারেক-কোকোর মানি লন্ডারিঙের কথা সবার জানা আছে।
সুইস ব্যাংকে যে বা যারাই টাকা পাচার করেছে- তারা যে বাংলাদেশি তা বলাই বাহুল্য। আর পাচার যে কেবল রাজনৈতিক নেতারা করে থাকেন সেটাও ঢালাওভাবে বলা ঠিক হবে না। সরকারি আমলা, ব্যবসায়ী, কালো টাকার মালিকরাও এর সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত থাকতে পারে। রাজনৈতিক দোষারোপের মধ্যে এই শ্রেণির মানুষেরা নেপথ্যেই থেকে যায়। এর ফলে শুধু রাজনীতিকরাই অভিযুক্ত হয় তা-ই নয়Ñ পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাটাই বিতর্কিত হয়। এটা অনেক সময় সচেতনভাবেই করা হয় যাতে করে রাজনীতিকদের সম্পর্কে জনমনে খারাপ ধারণা তৈরি করা যায়।
মূলত কর ফাঁকি দেয়া, কিংবা দুর্নীতি বা অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রাখার জন্যই মূলত অনেকে সুইস ব্যাংক বেছে নেয়। বিশ্বের অনেক দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ী বা নামকরা তারকা সুইস ব্যাংকে তাদের অর্থ পাচার করেছেন, এমন খবর বিগত দশকগুলোতে বহু বার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু এনিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইজারল্যান্ডের ওপর চাপ বেড়েছে এরকম অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অনেকেই দাবি জানিয়েছে, সুইটজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বাধ্য হয়ে তাতে নতি স্বীকার করতে হয়েছে তাদের।
রাজনৈতিক বিতর্কের কূটজাল বিস্তার না করে বরং সুইস ব্যাংকে অর্থপাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করাই সমীচীন হবে। অর্থ পাচারে বাংলাদেশিদের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণও জানা দরকার। যেখানে ভারতে এই প্রবণতা কমছেÑ বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে বাড়ার নিশ্চয় কোনো কারণ রয়েছে। বিষয়টি নিবিড় তদন্তের দাবি রাখে। সুইস ব্যাংকে কারা অর্থ জমা করছে তা বৈধ- অবৈধ যেভাবেই হোক না কেন তা দেশের মানুষের জানার অধিকার আছে। এদের তথ্য-উপাত্ত উদঘাটনের দায়িত্বও সরকারের। অর্থ যদি অবৈধ হয়, সম্ভব হলে তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও নিতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ