সুগার করপোরেশন একটি দুর্নীতিবাজ সংগঠনে পরিণত হয়েছে : বাদশা

আপডেট: অক্টোবর ২৬, ২০১৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ‘রাজশাহী সুগার করপোরেশন বর্তমানে আখচাষীদের বিরুদ্ধে, আখচাষীদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ও চিনি শিল্পের বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং প্রকৃতপক্ষে সুগার করপোরেশন চিনি শিল্পকে ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত। আমি মনে করি যে, করপোরেশনের যে সমস্ত কর্মকর্তা আখচাষী কৃষক ও চিনি কলের শ্রমিক এবং চিনি শিল্পের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।’
গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের ওয়ার্কাস পার্টির কার্যালয়ে উত্তরবঙ্গ চিনিকল আখচাষী সমিতি, নাটোর আখচাষী সমিতি ও রাজশাহী চিনিকল আখচাষী সমিতির যৌথভাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা।
বিনা চার্জে সকল পাওনাদি ও ভর্তুকির টাকা উত্তলন করার জন্য অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু, শুষ্ক মৌসুমে আখের মূল্য পাঁচ টাকা, আখ মিলের দায়িত্বে বিনা খরচে খালাস, আখচাষ ও মিলে আখ সরবরাহের উৎসাহিত করার জন্য মিল উৎপাদিত চিনি সরকারি মূল্যে দশ কেজির স্থানে ত্রিশ কেজি চিনি প্রদানসহ বিভিন্ন দাবিতে যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, উত্তরবঙ্গ সুগার চিনিকল আখচাষী সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ইব্রাহিম খলিল, উপদেষ্টা অধ্যাপক বাবু সুকুমার সরকার, নাটোর সুগার মিল সমিতির আব্দুল করিম, রাজশাহী আখচাষী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, সাধারণ সম্পাদক কায়েম উদ্দিন নগর ওয়ার্কাস পাটির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘রাজশাহী সুগার মিলকে কেন্দ্র করে আমি জানি বর্তমান সুগার করপোরেশন একটি দুর্নীতিবাজ সংগঠনে পরিণত হয়েছে এবং শুধু কৃষক বিরোধী না তারা করপোরেশনে বসে বানিজ্য করতে চায়। অথচ সরকারের নীতি হচ্ছে কৃষক বান্ধব। আমি চাই এ পরিস্থিতির অবসান হোক। এ পরিস্থির অবসান না হলে আখচাষীরা ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে এবং কৃষকরা আন্দোলনে যাবে।’
ফজলে হোসেন বাদশা আরো বলেন, ‘এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে এটা আমাদের কাম্য নয়। কারণ এ সরকার দশ টাকায় কৃষকদের ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ দিয়েছে এবং র্ভূতুকির টাকা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে গিয়ে জামা হয়। আর এখানে আখচাষীদের কাছে থেকে কমিশন কাটা হয়। আমার সন্দেহ করপোরেশনের চেয়ারম্যান কমিশন কাটার ষড়যন্ত্রের পেছেনে যুক্ত রয়েছে। আমি আশা করবো সরকার এটা তদন্ত করবে এবং এসব দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা আখচাষী সমিতির আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষনা করে বলেন যে অনাতিবিলম্বে এ সমস্যার যদি সমাধান না হয় তবে আগামী সংসদে এ সমস্যা উথত্থাপন করে বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরবেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় যে, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সুগার মিলের নিজস্ব হিসার শাখার ক্যাশিয়ারের মাধ্যমে চাষীদের সকল পাওয়াদি প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে চাষীদের ব্যাংক একাউন্টের দ্বারা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে চাষীদের সকল পাওনাদি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। কৃষকদের মাত্র দশ টাকা দিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খোলা এবং সেই ব্যাংক একাউন্ট হতে ভূর্তুকির টাকা কোন চার্জ ছাড়াই উত্তোলনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু বর্তমান মাড়াই মৌসুমে অনাকাঙ্খিত কিছু বিষয়ে স্বেচ্ছাচারীভাবে এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ঠ ও কৃষকদেরকে সরকারের উপর বিরুপ ধারণা তৈরিরহীন মানসে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গিতে সর্বোপরি সরকারের নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ চিনিকল করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একেএম দলোয়ার হোসেন তার একক সিদ্ধান্তে আখচাষীদের উপর অত্যন্ত জটিল অনিশ্চিত ও বিশেষ করে কমিশন ভিক্তিক মোবাইল ব্যাংকিং চালুর পাঁয়তারা করছে। চাষীরা এর আপত্তি জানালে চাষীদের উপর পুলিশী জুলুম ও ভাড়াটিয়া বাহীনির দ্বারা হুমকি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। সমিতি এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আশংঙ্কা প্রকাশ করছে যে এতে আখচাষে ভীষণ বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। তাই মোবাইল ব্যাংকিং নয় বরং অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। যতক্ষণ ব্যাংক একাউন্ট ভিত্তিক অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা না করা যায় ততক্ষণ পূর্ব ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে।