সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফসল ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড

আপডেট: আগস্ট ৭, ২০২২, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে চার দশকেরও বেশি সময় গবেষণা করেছেন লিফশুলজ। ১৫ আগস্টের হত্যা ষড়যন্ত্র বিষয়ে ‘An Unfinished Revolution’ নামে একটি তথ্যসমৃদ্ধ বইও লিখেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পেছনের কারণ অনুসন্ধানের পর জিয়ার আমলে সামরিক আদালতে কর্নেল তাহেরের বিচারের অনুসন্ধানও করেছিলেন এই সাংবাদিক। তখন বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাকে।

একটি মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ককে পরিবারের সব সদস্যসহ নৃশংসভাবে যেভাবে হত্যা করা হলো এবং এর পরের ঘটনাপ্রবাহগুলো বিশ্লেষণ করলেই পরিষ্কার হয়ে যায়, কতটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার ফসল ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যাকা- এবং কারা কতটুকু সম্পৃক্ত ছিল। হত্যাকান্ডের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ডেভিস ইউজিন বোস্টার ওয়াশিংটনকে জানান, “বেলা ১১টা পর্যন্ত অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ সাফল্যের সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে, ঢাকা বা বাইরে কোথাও কোনো গোলযোগ হয়নি। তবুও আমরা কিছু প্রতিরোধের আশঙ্কা এখনই নাকচ করে দিচ্ছি না। সব কিছু দেখে মনে হচ্ছে, অভ্যুত্থান সফল হয়েছে। বেতার মাধ্যমে সেনা, নৌ, বিমান, বিডিআর ও পুলিশপ্রধানরা সরকারের প্রতি অনুগত থাকতে বিবৃতি প্রচার করেছেন।”

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু হত্যার খবরটিও ১৫ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভয়েস অব আমেরিকা থেকে প্রথম প্রচার করা হয়। অথচ তখনও বঙ্গবন্ধু জীবিত। এর কিছুক্ষণ পর ৬টার কিছু আগে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার প্রায় ত্রিশ মিনিট আগেই মৃত্যুর খবর প্রচার করা হয়। তাহলে কি ভয়েস অফ আমেরিকা আগে থেকেই জানত ভোর সাড়ে ৫টায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হবে?
তথ্যসূত্র: : মর্তুজা হাসান সৈকতের ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে ষড়যন্ত্র ও জিয়ার সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক নিবন্ধ থেকে সংকলিত