সুপ্রিম কোর্টের সব রায় বাংলায় হবে দেশের মানুষ উপকৃত হবেন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের সব রায় বাংলায় দেয়া হবে।
২১ ফেব্রুয়ারি সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের দুই বিভাগের আইনজীবীরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামান।
ভাষার মাসে প্রধান বিচারপতির মুখে অমন প্রতিশ্রুতি আশা জাগানিয়া বটে। সুপ্রিম কোর্টের সব রায় বাংলায় দেয়া হবেÑ তাঁর এই মন্তব্যের নিশ্চয়তাও পরিলক্ষিত। তিনি বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে আমরা একটি সফটওয়্যারের ব্যবহার শুরু করেছি। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টের সব রায় ইংরেজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলায় রূপান্তরিত হচ্ছে। রূপান্তর কাজ শেষ হলে আমরা আরও গুছিয়ে নেব৷’ এ ব্যাপারে একটি অনুবাদ সেল গঠনের কথাও তিনি বলেন।
১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। যারা সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার বাস্তবায়নে কাজ করবেন। জানা যায়, বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, অফিসের নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র বাংলায় না লেখা হলে তার কাছে উপস্থাপন করা যাবে না। সুতরাং যাবতীয় সরকারি নথিপত্র বাংলায় লেখার জন্য কেবিনেট ডিভিশন পরিপত্রে সকল মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানায়।
যাহোক, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও সর্বস্তরে বাংলা চালু সম্ভব হয়নি। যদিও বিষয়টি জাতির জন্য লজ্জাজনক। ভাষার প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠির ওপর নির্ভর করে না। এটি সমগ্র জাতির স্বার্থ-সম্পর্কীয়। এটি উন্নয়নের পূর্ব শর্তও বটে। সমগ্র জাতি গোষ্ঠির বোধ ও বিশ্বাস, সহজ অভিগম্যতার জন্য মাতৃভাষার অন্য কোনো বিকল্প হতে পারে। এই বোধ- বিশ্বাস ও অভিগম্যতার মধ্যেই উন্নয়নের ধারণাটি নিহিত আছে। বিশ্বের যেসব দেশ উন্নয়নে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে তাদের সকলেই তাদের নিজ নিজ ভাষার সদ্ব্যবহার করেছে। টেকসই উন্নয়ন সফল করতেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন সেটা সময়েরই দাবি। ভাষার যোগাযোগ সহজ হলে ব্যক্তি স্বয়ং বোধ দ্বারা চালিত হতে পারে। ফলে তার শিখনটাও ত্বরান্বিত হয়, নিশ্চিত হয়।
মাননীয় প্রধান বিচারপতিকে সাধুবাদ জানাই যে, তিনি উদ্যোগটা নিয়েছেন এবং বাংলায় রায় লেখার কার্যক্রমটা অচিরেই চালু হবে- সে কথাও তিনি ব্যক্ত করেছেন। এই কাজটি সাফল্যের সাথে করা গেলে দেশের অনেক মানুষ অহেতুক বিড়ম্বনা ও প্রতারণার খপ্পর থেকেও রক্ষা পাবেন। বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের ধারণা আরো স্পষ্ট হবে এবং আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ