সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে চাঁদাবাজি || লোকসানের মুখে গরু ব্যবসায়ীরা

আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০১৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি



রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে বিটের নামে গরু-মহিষ থেকে অতিরিক্ত চাঁদা আদায় হচ্ছে। এর ফলে গরু-মহিষ প্রতি অতিরিক্ত ১৬০ টাকা চাঁদা দেয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় গরু-মহিষ সীমান্ত এলাকায় আসার পর সুলতানগঞ্জ কাস্টমসে গরু প্রতি ৫০০ টাকা জমা দিয়ে রাজস্ব ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হয়। এসব গরু-মহিষ সুলতানগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করার পর দেশের অভ্যন্তরে চলে যায়। কিন্তু গত রোববার থেকে ভারতীয় গরু-মহিষ জোর করে সুলতানগঞ্জের মুন্টুর বিটে ঢোকাচ্ছে। এই নিয়ে সুলতানগঞ্জ এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা গরু-মহিষ  নিয়ে তাদের পছন্দের বিটে যেতে চাইলে মন্টুর লোকজন ব্যবসায়ীদের মারধর করছে। মুন্টু বিটের নামে গরু-মহিষ প্রতি ১১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। মন্টুর লোকজনকে এই কাজে সহযোগিতা করছে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ।
সাইফুদ্দীন নামে এক গরু ব্যবসায়ী জানান, ১৯৯৪ সালে সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোর চালুর পর থেকে তারা নিজের জায়গা ভাড়া করে গরু-মহিষ রেখে আসছেন। গত কয়েক বছর ধরে গরু-মহিষ আসা কমে যাওয়ায় অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দেয়। নতুন করে গত কয়েক মাস থেকে আবারও গরু-মহিষ আসা শুরু হয়েছে। পুরাতন নিয়ম অনুযায়ী সুলতানগঞ্জ করিডোরে গরু মহিষের ব্যবসা করে আসলেও হঠাৎ করে বিটের নামে চাঁদা আদায় হচ্ছে। অথচ মুন্টুর মত সুলতানগঞ্জ এলাকায় শতাধিক বিট রয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, কাস্টমসে ৫০০ টাকা রাজস্ব দেয়ার পরও অতিরিক্ত ১৬০ টাকা করে দিতে হয়। এর মধ্যে মুন্টুর বিট বাবদ ১১০ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের নামে। এদিকে সীমান্ত পার হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বগচর ও বাখের আলীতে সরকার অনুমোদিত বিটে গরু-মহিষ প্রতি ২০০ টাকা দিতে হয়। সীমান্ত থেকে সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে গরু-মহিষ  আসা পর্যন্ত গরু-মহিষ প্রতি চরের বিট ২০০ টাকা, খেওয়া ঘাটে ইজারা বাবদ ১০০ টাকা, নৌকা ভাড়া বাবদ ১০০ টাকা, সুলতানগঞ্জ মন্টুর বিটসহ ১৬০ চাঁদা বাবদ টাকা দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের একটি গরু-মহিষে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে ৫৬০ টাকা। এতে করে গরু-মহিষ ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। প্রতিদিন সুলতানগঞ্জ শুল্ক করিডোরে ৫ থেকে ১০ গরু-মহিষ আসে। অন্যদিকে ট্রাকপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করছে তথাকথিত ট্রাক শ্রমিকেরা।
এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সুলতানগঞ্জ মুন্টুর বিটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মন্টুর লোকজনকে তাদের কাজে পুলিশের সহযোগিতা করার  বিষয়টি সঠিক নয়।
এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ