‘সুলতান সুলেমান’র দাম ১০ লাখ টাকা ৩৩ মণ ওজন!

আপডেট: জুন ৬, ২০২৪, ৮:১২ অপরাহ্ণ


শাহীন রহমান, পাবনা:


উচ্চতা ৬ ফুট, সাদা-কালো রঙের ডোরা কাটা। দেখতে বেশ সুঠাম দেহের অধিকারী। এই ষাঁড় গরুটির ওজন ৩৩ মণ। নাম রাখা হয়েছে সুলতান সুলেমান। এবারের কোরবানির পশুর হাট কাঁপাতে আসছে সে।

বিশাল ষাঁড়টি ইতোমধ্যে নজর কেড়েছে সবার। সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধতির খাবার খাইয়ে লালন পালন করেছেন খামারী সজিব আহমেদ। সুলতান সুলেমানের জন্য তিনি দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা।
আলাপকালে জানা যায়, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার চিথুলিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ (২৫)। ঢাকার তেজগাঁও কলেজে বিএ অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র তিনি। শখের বসে সাড়ে তিন বছর আগে দেড় লাখ টাকায় কিনেছিলেন একটি ষাঁড় গরু। এখন সেটি পরিণত হয়েছে বিশাল ষাঁড়ে।

সজিব আহমেদ জানান, ‘প্রচণ্ড গরমেও সে শান্ত, কোনো অসুস্থতা নেই। টিভি সিরিয়াল সুলতান সুলেমানের ভক্ত হওয়ায় সজিব ভালবেসে ষাঁড়টির নাম দিয়েছেন সুলতান সুলেমান। কাঁচা ঘাস, খৈল, ভূষি সহ সম্পূর্ন দেশীয় খাবার পদ্ধতিতে গরুটি লালন পালন করেছেন। আসলে করোনার মধ্যে কলেজ বন্ধ থাকায় কি করা যায় ভাবনা থেকে গরুর খামার করা।

তিনি জানান, ‘গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ৩৩ মণ। দেশীয় খাবার খাইয়ে বড় করা সুলতান সুলেমানকে বিক্রির জন্য খামারী সজিব দাম হাঁকছেন ১০ লাখ টাকা। তিনি এবারের ঈদে গরুটি বিক্রি করতে চান। তাই গরুটির ন্যায্য দাম চেয়েছেন। দাম বেশি বলে ভাইরাল হওয়ার জন্য নয়।’

দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের মতো লালন পালন করতে গিয়ে ষাঁড় গরুটির মায়ায় পড়েছেন পরিবারের লোকজন। এখন বিক্রি করতে গিয়ে আবেদ আপ্লুত তারা। চালচলনে শান্তশিষ্ট হলেও, অপরিচিত মানুষ দেখলে রেগে যায়। সুলতান সুলেমানের প্রিয় খাবার কাঁচা ঘাস।

ফরিদপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোপেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘শাহীওয়াল আর হলেস্টান ফিজিয়ান শংকর জাতের ষাঁড় সুলতান সুলেমানের শরীরে চর্বি নেই। যিনি কিনবেন তিনি লাভবান হবেন। এত বড় গরু এত কম দামে সহজে পাওয়া যাবে না। খামারী সজিব আশানুরূপ দাম পাবেন বলে আশা করেন তিনি।’

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার বলেন, ‘শুধু কোরবানির ইদে লক্ষ্য না রেখে ইদুল ফিতরে গরুগুলো বিক্রি করলে লাভবান হতে পারবেন খামারিরা। বড় কেনার ক্রেতা এখন অনেক কম। এছাড়া গ্রুপ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্রির চেষ্টা করলে ধকল ও খরচ দুই-ই কমবে।’