‘সুলতান সুলেমান’ ধারাবাহিক: দু’পক্ষই চায় আলোচনা

আপডেট: ডিসেম্বর ২১, ২০১৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) ডাবিং করা বিদেশি ধারাবাহিক বন্ধের দাবিতে দেশের চারটি টিভি চ্যানেলের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত জানায় টিভিসংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের সংগঠনগুলোর জোট ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও)।
সে অনুযায়ী গত  সোমবার দুপুরে দীপ্ত টিভির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শতাধিক অভিনয়শিল্পী-নির্মাতা ও কলাকুশলীরা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন এফটিপিও’র সভাপতি ও বরেণ্য অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তিনি বললেন, ‘কোনও চ্যানেলের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানো, এটা কখনোই আমাদের কাজ নয়। তারপরও আমরা বাধ্য হয়ে চ্যানেলগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশীয় সংস্কৃতির জন্য আমরা আমাদের দাবিগুলো নিয়ে দীপ্ত টিভির সামনে গিয়েছি। আমি, সৈয়দ হাসান ইমামসহ অনেক জ্যেষ্ঠ শিল্পী এতে অংশ নেই। কিন্তু চ্যানেলটির কেউ-ই সেভাবে কথা বলেন নি। তারা সৌজন্যবোধও দেখান নি।’
দীপ্ত টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী উরফী আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আসলে জোর-জবরদস্তি করে তো কখনও দাবি আদায় হয় না। আমরা এভাবে নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাই। তারা যদি আলোচনার প্রস্তাব দেন তাহলে আমরা কথা বলতে রাজি আছি।’
যে বিদেশি ধারাবাহিকটি অর্থাৎ ‘সুলতান সুলেমান’ নিয়ে এত প্রশ্নের মুখে পড়েছেন সে সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ ধারাবাহিকটি বন্ধের আপাতত কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। তবে আলোচনার মাধ্যমে আমরা সবকিছুর সমাধান চাই। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা যদি আলোচনার প্রস্তাব দেন তাহলে আমরা অবশ্যই তাতে রাজি আছি।’
বিষয়টি নিয়ে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা তো তাদের সঙ্গে কথা বলতেই গিয়েছি। কিন্তু তাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয় নি।’
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীপ্ত টিভির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন আন্দোলনরত পরিচালক সমিতির সভাপতি গাজী রাকায়েত, সাধারণ সম্পাদক এসএ হক অলীকের সঙ্গে কথা বলেন। দীপ্ত টিভির লাইন প্রোডিউসার মোস্তফা মনন, শায়লা আহমেদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। আলোচনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও কথা হয় নি।
তবে গত ২১ নভেম্বর টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন পাঠান ও নাট্যকার সংঘের মাসুম রেজা দীপ্ত টিভির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সে আলোচনায় তারা তাদের দাবি দীপ্ত টিভির কাছে তুলে ধরেন।
এফটিপিও জানায়, দেশের সব টিভি চ্যানেল যেন দ্রুত বিদেশি ডাবিংকৃত সিরিয়াল বন্ধ করে এবং তাদের অন্যান্য দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে-সেজন্য তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি। সে অনুযায়ী ২০ ডিসেম্বর একুশে টেলিভিশন, ২৮ ডিসেম্বর এসএ টিভি এবং ২৯ ডিসেম্বর মাছরাঙা টেলিভিশন কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নেবে এফটিপিও।