সু চির বিরুদ্ধে আরও মামলা দায়ের

আপডেট: মার্চ ১, ২০২১, ৪:১১ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গত মাসের ১ তারিখে মিয়ানমারে অভ্যত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করে নেয় সামরিক বাহিনী। সে সময় দেশটির বেসামারিক সরকারের প্রধান অং সান সু চিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলায় দায়ের করা হয়। এদিকে, সোমবার এই ডি ফ্যাক্টো নেত্রীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ এনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
সোমবার স্থানীয় একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সু চির পক্ষের এক আইনজীবী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে সোমবার সকাল থেকেই সোমবার আবারও মিয়ানমারে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এর আগে রোববার বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার পরও মিয়ানমারের সামরিক সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালিয়েই যাচ্ছে।
সোমবার রাজধানী নেপিদোতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নিয়েছেন সু চি। এ সময় তাকে স্বাভাবিক দেখা গেছে। তবে সম্ভব তার ওজন কিছুটা কমে গেছে।
ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) এই নেত্রীকে গ্রেফতার করার পর এই প্রথম তাকে জনসম্মুখে দেখা গেল। এর আগে তিনি কেমন আছেন তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
এর আগে তার বিরুদ্ধে আমদানি-রফতানি আইন ভঙ্গ এবং অবৈধভাবে যোগাযোগ ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছিল। সে সময় আদালতে সু চির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগপত্রে বলা হয় যে, তিনি যোগাযোগ সরঞ্জাম- ওয়াকিটকি অবৈধভাবে আমদানি ও ব্যবহার করেছেন, যা তার নেপিদোর বাড়িতেই পাওয়া গেছে।
পরবর্তীতে করোনাভাইরাস বিষয়ক প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। আগামী ১৫ মার্চ সু চির বিরুদ্ধে পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন ছিল রোববার। এর আগে একদিনে এত বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়নি।
রোববার দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি ছুড়েছে পুলিশ। অং সান সু চির দলের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে রাস্তায় নামা সাধারণ মানুষের ওপর টিয়ার গ্যাস এবং জলকামান ছুড়েছে পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভ প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। সোমবার সকাল থেকেই আবারও রাজপথ উত্তাল হয়ে উঠেছে।
সোমবার ইয়াঙ্গুন শহরের বিভিন্ন বিক্ষোভকেন্দ্রে জলকামান নিয়ে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর যান চলাচল করতে দেখা গেছে। মিয়ারমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেলে সু চির ছবি হাতে স্লোগান করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়া জনপ্রিয় নেতা এই থিনজার মাউং সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের এক মাস পার হয়ে গেছে। তারা আমাদের আটকে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু আজ আমরা আবারও পথে নেমেছি।’
তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ