সূর্যপাখি

আপডেট: জানুয়ারি ১০, ২০২০, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

আনিফ রুবেদ


[হাজার বছর ধরে ডুবেছিল সূর্যটা। ঘুমিয়ে ছিল সূর্যটা। কিন্তু তাকে ডাক দেবার
মতো সাহসী কেউ ছিল না। স্বাধীনতাসূর্যটাকে ঘুম-ডোবা থেকে তোলার জন্য
দরকার ছিল এক সাহসী ডাকের। কান্নায় ভরে উঠেছিল এই ডোবা সূর্যের তলায় থাকা
জীবদের জীবন। তারা ছটফট করছিল অন্ধকারের বন্ধকার থেকে বের হবার জন্য। এসময় সেই
সাহসী কণ্ঠ উঠে এলো স্বপ্ন জাগানিয়া সাহস আর সততা নিয়ে। সে এক সাহসী
সূর্যপাখি। সূর্য ডেকে আনা পাখি। ]
১.
সূর্য ডোবার সময় হঠাৎ করেই মনে পড়ে যায়
আজ সকালের সূর্য ওঠার দৃশ্য। আঁধার থাকতেই
ভেঙ্গে গেছিল ঘুম কিন্তু সূর্য উঠছিলই না।
এসব অসহায় প্রতীক্ষার মধ্যে সাহায্য করার জন্য উঠে
এসেছিল মোরগটা।
লালঝুঁটির মোরগ রাজ আদেশ
দেবার ভঙ্গিমায় পাঁচিলের উপর দাঁড়িয়ে ডাকে,
এ ডাক আঁধার ভাঙা ডাক, বাঁধার ভাঙা ডাক।
অন্ধকারের জঙ্গল থেকে, বন্ধকারের বন থেকে বের হবার জন্য
সূর্যটাকে আদেশ করে। মোরগের এ সূর্য ডাকে
সবকিছু জেগে ওঠে। জেগে ওঠে সূর্য আর হাসি ছড়িয়ে
গেল পেখমনাচ হাসি।
ভেঙ্গে গেল নিশিদালান, যন্ত্রণার যাঁতা। শুরু হলো নিজেদের এক
স্বাধীন সূর্যের যুগ।
[ আফশোস! সূর্যটা খুব বেশিদিন স্থায়ী হতে পারল না। আগের ডোবায় ডুবে গেল
সূর্য আবার। আগের জংলি আঁধার কারাগারের ছায়ায় ছটফট করতে লাগল সবাই।
আফশোস! ]
২.
সূর্যডোবার সময় মনে হতে শুরু করল, কাল
থেকে আর কখনোই সূর্য উঠবে না কারণ আমরা
দুপুরের মধ্যেই ভোররাজ মোরগটাকে ছোরা চালিয়ে
হত্য করেছি আর মাংস খেয়েছি।
সত্যি সত্যি এখন পর্যন্ত আমাদের পৃথিবীতে
সূর্য উঠেনি। কারণ, সূর্যডাকা মোরগটা আর নেই।
৩.
অন্ধকার আর বন্ধকার ঢাকা সময়ের চাকা যেন ভেঙে গেছে।
অসময়ের চাকা চেপে বসে আছে বুকের উপর, রক্ত ঝরছে ঝলকে ঝলকে।
সূর্যডাকা মোরগ আর ফিরবে কখনো?