সেই মাশরাফিদেরই হারালো রংপুর

আপডেট: জানুয়ারি ১১, ২০২০, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ব্যাটে-বলে রংপুরের জয়ের নায়ক লুইস গ্রেগরি-সংগৃহীত

প্লে-অফ খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে গিয়েছিল তাদের আগেই। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের শেষ ম্যাচটির গুরুত্ব সেই অর্থে ছিল না। তবে জয় দিয়ে শেষ করার প্রত্যাশা অবশ্যই ছিল রংপুর রেঞ্জার্সের। তা ছাড়া আগের ম্যাচেই যেহেতু ঢাকা প্লাটুনের কাছে বড় লজ্জা পেয়েছিল, সেই হিসাব চুকানোর ব্যাপারও ছিল। দুটিই একসঙ্গে সেরে নিলো রংপুর। ঢাকাকে ১১ রানে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ করেছেন শেন ওয়াটসনরা।
গতকাল (শুক্রবার) দিনের প্রথম ম্যাচে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৪৯ রান করে টস হারা রংপুর। আগের ম্যাচে এই রংপুরকে ৮৪ রানে গুটিয়ে প্লে-অফে উঠলেও ঢাকা এবার পরাজিত দলে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে করতে পারে তারা ১৩৮ রান। ১১ ম্যাচ শেষ আগের ১৪ পয়েন্ট নিয়েই দ্বিতীয় স্থানে মাশরাফিরা। ১২ ম্যাচ খেলে বিপিএল শেষ করা রংপুরের পয়েন্ট ১০ হলেও থাকতে হলো আগের ষষ্ঠ স্থানেই।
ঢাকাকে জেতাতে কিন্তু কম চেষ্টা করেননি রংপুরের বোলাররা! মোস্তাফিজুর রহমান ও লুইস গ্রেগরির শেষ দুই ওভারে নো ও ওয়াইড বলের সঙ্গে মিস মিল্ডিংয়ে বাউন্ডারি ‘উপহার’ দেওয়ার দৃশ্যে একটা সময় ঢাকার জয়ই সম্ভাব্য মনে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত অবশ্য জয়ের হাসি হেসেছে রংপুর। গ্রেগরির শেষ ৪ বলে মাশরাফি রান নিতে না পারায় জয়েই এবারের বিপিএল শেষ হলো তাদের।
১৫০ রানের লক্ষ্যটা ঢাকার জন্য কঠিন হয়ে যায় শুরুতেই। নো বলে রান আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার এনামুল হক (৫)। তামিম ইকবাল ও মেহেদী হাসান প্রতিরোধ গড়লেও ব্যাট করেছেন বড্ড মন্থর গতিতে। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে মেহেদীর আউটের সময় স্কোরবোর্ডে ৫৫ রান জমা হলেও ততক্ষণে পেরিয়ে গেছে ৭.৩ ওভার। আর মেহেদী নিজে ২৪ বলে করেন ২০ রান। অন্যদিকে তামিমের ৩৪ রান আসে ৩৩ বল থেকে, ২ চারের সঙ্গে মেরেছেন ১ ছক্কা।
পরের দিকে মুমিনুল হক (১৪ বলে ১৮) ও শাদাব খান (১৪ বলে ১৬) চেষ্টা করেও বেশিদূর যেতে পারেননি। আর শেষে মাশরাফির ব্যাটে ম্যাচ জমে যাওয়ার ইঙ্গিত মিললেও হার এড়াতে পারেনি ঢাকা। ঢাকা অধিনায়ক ১৩ ১২ রান করে অপরাজিত থাকেন।
রংপুরের জয়ের পথে বোলারদের ভূমিকা অনেক। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন জুনাইদ খান, তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি।
এর আগে ব্যাটিংয়ে রংপুরের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। ৫০ রানে হারায় টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান শেন ওয়াটসন (১০), ক্যামেরন ডেলপোর্ট (৬) ও মোহাম্মদ নাঈমের (১৭) উইকেট। তবে গ্রেগরির ৩২ বলে ৪৬, আল-আমিনের ২৪ বলে ৩৫ ও জহুরুল ইসলামের ২৪ বলে ২৮ রানে ভর দিয়ে ১৫০ ছুঁই ছুঁই স্কোর গড়ে রংপুর।
ঢাকার সবচেয়ে সফল বোলার থিসারা পেরেরা। শ্রীলঙ্কান পেসার ২৩ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট পেয়েছেন শাদাব। মাশরাফি ১ উইকেট পেলেও ৪ ওভারে খরচ করেছেন মাত্র ১৭ রান।