সেই ৩৭ কৃষকের ঋণ তদন্তে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির কাজ শুরু

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ১১:০৬ অপরাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি :


পাবনা ঈশ্বরদী উপজেলার আলোচিত সেই ৩৭ ঋণ খেলাপীর বিষয়ে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। রোববার (৪ ডিসেম্বর) কমিটির সদস্যরা পাবনায় গিয়ে জেলা প্রশাসক ও ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের সাথে কথা বলেন।

সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যাবস্থক ও প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা ঝর্ণা প্রভা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর এ-ই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম (পরিদর্শন) আহসানুল গণির নেতৃত্বে তিন সদস্যে তদন্ত কমিটি পাবনা শহরের এলএমবি মার্কেটে অবস্থিত পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড কার্যালয়ে যান। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপ-ব্যবস্থাপক (পরিদর্শন ও আইন) আব্দুর রাজ্জাক ও সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকল্প ঋণ) আমিনুল ইসলাম রাজীব।

পরে তারা পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের পাবনা শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল অফিসার কাজী জসিম উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে পাবনা জেলা প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় পাবনা জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নজরে রয়েছে। সুদ মওকুফ করার বিষয়টি তাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলেন। যাতে কোনো কৃষক হয়রানির শিকার না হন।

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের ডিজিএম (পরিদর্শন) আহসানুল গণি পাবনা জেলা প্রশাসককে জানান, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে।

আহসানুল গণি জানান, তারা আগামীকাল সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল দশটায় ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঋণ খেলাপী সদস্যদের সাথে সরেজমিন সাক্ষাৎ করবেন। এসময় তারা পল্লী প্রকল্প ঋণ গ্রহীতা সদস্যদের সাথে ঋণ প্রদান, আদায় ও পরিশোধ সংক্রান্ত প্রমানপত্র সম্পর্কিত সকল তথ্য পর্যলোচনাপূর্বক তদন্ত করবেন। পরে ঢাকায় গিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাবনা জেলা প্রশাসক সহ বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী গ্রামের ৪০ জন কৃষক দলগত ঋণ হিসেবে ১৬ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। এর মধ্যে কেউ ২৫ হাজার, কেউ ৪০ হাজার টাকা করে ঋণ পান। দীর্ঘদিনেও সেই ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে মামলা করে ব্যাংকটি। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করলে গত ২৫ নভেম্বর ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।

বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৭ নভেম্বর পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শামসুজ্জামান গ্রেপ্তার ১২ কৃষক সহ ৩৭ জন কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেন। পরে ২৯ নভেম্বর ৩৭ কৃষক তাদের সুদসহ ঋণের বাকি টাকা ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য কৃষকদের পক্ষে বিলকিস নাহার এ সংক্রান্ত আবেদন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ