সেচে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ৯:৪০ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


এবার সেচের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। সারাদেশে চার লাখ ৬৫ হাজার ৪৯৫টি সেচ সংযোগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ দিতে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ভবনে সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ১৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে তরল জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রে কমপক্ষে দুই মাস জ্বালানির মজুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, সেচে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখার জন্য মনিটরিং জোরদার করতে হবে। প্রত্যেকটি বিতরণ কোম্পানিকে কন্ট্রোল সেন্টার খুলতে হবে। এই কন্ট্রোল সেন্টারগুলোর মাধ্যমে সার্বক্ষণিকভাবে বিতরণ পরিস্থিতি মনিটর করতে হবে।

পিডিবির দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, ৭৭ হাজার মেট্রিকটন তেল এবং ৬৬ হাজার টন ডিজেলের প্রয়োজন। এসব জ্বালানি সরবরাহর ক্ষেত্রে দক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্বাচন করে সেগুলোকে উৎপাদনে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সেচে মোট চাহিদা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের মধ্যে আরইবি এককভাবে ২ হাজার ২৮ মেগাওয়াট, পিডিবি ১৭১ মেগাওয়াট, নেসকো ১৪৪ মেগাওয়াট এবং ওজোপাডিকো ৫০ মেগাওয়াট বিতরণ করবে।

সেচ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিদ্যুৎ জ্বালানির পাশাপাশি নৌপরিবহন, সড়ক সেতু, রেলপথ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের সেচে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে জেলা প্রশাসক এবং জেলা পুলিশকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
প্রতি বছর মার্চ এপ্রিলে সেচের সঙ্গে গ্রীষ্মের চাহিদা যোগ হয়। এতে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে যায়। এবার সব মিলিয়ে গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট।

বৈঠকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে, যে সকল গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্বিঘেœ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, সেসব বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে।

চলতি সেচ মৌসুমে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সে বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ ও বিপিসি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বাবিউবো) পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে জ্বালানি পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন, পেট্রোবাংলা ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্ৰগুলোতে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং কয়লার সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি সেচ মৌসুমে সেচে পানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের লক্ষ্যে অল্টারনেট ওয়েট অ্যান্ড ড্রাই পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে এবং অফ-পিক আওয়ারে সেচ যন্ত্র পরিচালনার নিমিত্ত জনসচেতনতামূলক ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।

সেচ পাম্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য গ্রিড উপকেন্দ্র, সঞ্চালন লাইন, বিতরণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো সংরক্ষণ ও মেরামত কাজ জরুরিভিত্তিতে শেষ করতে হবে। ওভারলোডেড সাবস্টেশনগুলো ও সঞ্চালন লাইন আপ- গ্রেডেশনের কাজ দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে ন্যূনতম দুই মাসের উৎপাদন সক্ষমতা রাখার জন্য জ্বালানি তেলের মজুত নিশ্চিত করতে হবে।

পিক-আওয়ার পরিহার করে রাত ১১ টার পর থেকে পরের দিন সকাল ৭ টা পর্যন্ত অফ পিক-আওয়ারে সেচ পাম্প ব্যবহারের বিষয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন