সেন্টুর চিকিৎসার পাশাপাশি দাফন-কাফনের ব্যয়ভার বহন করলেন ডিসি শামীম আহমেদ

আপডেট: জুলাই ৫, ২০২৪, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

সেন্টুর চিকিৎসার পাশাপাশি দাফন-কাফনের ব্যয়ভার বহন করলেন ডিসি শামীম আহমেদ

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে অক্সিজেনের পাইপ নিয়ে অটোরিকশা চালানো সেই সেন্টু আর নেই। তিনি বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুপুর দেড়টায় নগরীর কলাবাগান সবজিপাড়া এলাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই কন্যা রেখে গেছেন। এসময় তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মৃত্যুর খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি সেন্টুর বাসস্থান ও চিকিৎসার পাশাপাশি দাফন-কাফনের ব্যয়ভার বহন করেন।

এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় শুক্রবার (৫ জুলাই) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পবা,রাজশাহী অভিজিত সরকার সেন্টুর স্ত্রী, সন্তান ও দুই কন্যার হাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করেন। এই খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মরহুমের পরিবার।

এসময় সেন্টুর ছেলে রাকিব জানান, দীর্ঘদিন থেকে শ্বাসকষ্ট, হার্টের ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। তিন সপ্তাহ আগে বাবাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির খবর পেয়ে ডিসি স্যার চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা পাঠান। ডিসি স্যারের দয়ায় আমার বাবা মাথা গোজার ঠাই পেয়েছে।এছাড়াও তিনি প্রতি মাসে খোঁজ খবর নিয়েছেন এবং খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) দুপুর পৌনে একটার দিকে বাবাকে চাচার বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দেড়টার দিকে বাবা মারা যান। বাদ মাগরিব নগরীর হেতেম খাঁ বড় মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাযার নামাজ শেষে হেতেম খাঁ কবরস্থানে দাফন করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসাসহ দাফন-কাফনের সকল ব্যয় জেলা প্রশাসক দিয়েছেন।আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ মে রিকশা চালক সেন্টুকে নিয়ে দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় ‘অক্সিজেনের পাইপ নাকে নিয়ে রিকশা চালান সেন্টু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরে বিষয়টি জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ এর নজরে আসে। এরপর তিনি সেন্টুকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেন্টুর নিদারুণ কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং পবা উপজেলার বড়গাছিতে আশ্রয়ন প্রকল্পে একটি ঘর বরাদ্দ দেন। চিকিৎসার সব খরচ বহন করেন। পরবর্তীতে পবা উপজেলার বড়গাছিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরে স্ত্রী চম্পা বেগমকে নিয়ে বসবাস করা শুরু করেন তিনি। গত ১৬ দিন আগে হঠাৎ করে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন সেন্টু। তারপরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে ছুটি দিলে বাড়ি ফিরে সেন্টুর মৃত্যু হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ