‘সেভ আওয়ার সোসাইটি’র গবেষণা করোনায় হতাশাগ্রস্ত দেশের ৮৬.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী

আপডেট: মার্চ ২, ২০২১, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক:


করোনার দীর্ঘ ছুটিতে একঘেয়েমি মনোভাব, মানসিক বিপর্যস্ত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে দেশের ৮৬.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। সেই সঙ্গে পড়াশোনা থেকে সম্পৃক্তহীন হয়ে পড়েছে দেশের ৬৪.২ শতাংশ শিক্ষার্থী। তবে এরই মধ্যে পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে ৬৩.৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ আওয়ার সোসাইটি’র উদ্যোগে করা ‘অনলাইন জরিপ ২০২০’ শীর্ষক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ৭ই ফেব্রুয়ারির সংগঠনটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই গবেষণা জরিপটি প্রকাশ করা হয়।
জরিপে বিভিন্ন অঞ্চলের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ১ হাজার ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। যেখানে শিক্ষার্থীদের সার্বিক পরিস্থিতির পাশাপাশি নিজেদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা ও বিভিন্ন কার্যক্রম এবং কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।
অনলাইন জরিপে দেখা যায়, করোনার দীর্ঘ ছুটিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৪.২ শতাংশ শিক্ষার্থীর একাডেমিক পড়াশোনায় কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে করোনা সংক্রমণের পূর্ববর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশুনায় সম্পৃক্ততা থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনে কাজ করেছে ৫২.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৬.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বলছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণে দীর্ঘদিন বাসায় থাকার ফলে তাদের মধ্যে একঘেয়েমি মনোভাব চলে এসেছে। এতে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। তবে জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী মনে করেন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলেও তাদের পারিবারিক সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। ৩৪.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বলছে, বন্ধুদের সাথে তাদের যোগাযোগ কমেছে। তবে ১৭.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী করোনাকালে নতুন কিছু করার মাধ্যমে নিজেদের কর্মব্যস্ত করে তোলেন।
করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রম নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. গৌতম রায় বলেন, ‘আমাদের নীতি নির্ধারকের মধ্যে একটা সময় পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছিলনা। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশেই ‘এমার্জেন্সি এডুকেশন’ পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই নীতিমালা নেই। এতে আটকে রয়েছে শিক্ষাজীবন, যেতে পারছে না কর্মজীবনে। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ার এগুলো অন্যতম কারণ।
এবিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আশিক শাহরিয়ার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা থেকে দূরে সরে গেছে। মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে অনেকটাই হতাশা ও বিষণœতার মধ্যে রয়েছে। কারণ বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে পরিবার অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। শিক্ষার্থীদের হতাশাগ্রস্ত হওয়ায় এটিও অন্যতম কারণ।
উল্লেখ্য, ‘সেভ আওয়ার সোসাইটির’ স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন, মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি বিষয়ক জরিপ পরিচালনা করাসহ যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেফজোন তৈরির মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করে থাকে।