সেমিনারে বক্তারা অসহায় রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ফান্ড গঠন দরকার

আপডেট: মে ২২, ২০২২, ১০:৩১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্ভুত সমস্যা সমাধান ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২২ মে) বেলা ১১ টায় নগরীর হোটেল-এক্সে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়, রাজশাহী ও হাসপাতাল সমাজসেবা কার্র্যালয় এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যৌথ আয়োজনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের পরামর্শ অসহায় রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ফান্ড গঠন করা দরকার। এই বিষয়টি নিয়ে সবার মনোযোগ দেয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের (উপসচিব) পরিচালক এ.কে.এম. সরোয়ার জাহান। আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী, বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ (অব.) প্রফেসর ডা. বি.কে.দাম ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছা. হাসিনা মমতাজ।

সেমিনারে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাম্প্রতিক উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে উন্নত মানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা আলোচনা করা হয়। এছাড়াও রেকসনা, মোজাম্মেল হক, রওশন আরাসহ অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, জেলা উপজেলা পর্যায়ে সমাজ সেবা পৌঁছে দেয়ার কথা।

গরিব, দুঃখী ও সামর্থ্য নেই এমন রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ফান্ড করা দরকার বলে তারা মনে করছেন। ১৯৬২ সাল থেকে চিকিৎসা সেবার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন জাতীয় সমাজসেবা পরিষদ। এই পরিষদ ২০ লক্ষ টাকার ওষুধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দিয়ে যাচ্ছেন।

সেমিনারে বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেনী তার বক্তব্যে বলেন, সোনার বাংলা গড়তে এবং দেশের মানুষ কিভাবে ভালো থাকবে সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি একজন নরম মনের মানুষ। পারিবারিক সম্পর্ক ধরে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি রাজশাহীর সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে রাজশাহীর জন্য যখন যা চেয়েছেন তখন তা পেয়েছেন। সমাজসেবা ও চিকিৎসা সেবার জন্য যা করতে হবে তা বললেই চেষ্টা করবেন।

প্রধান অতিথি রামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বক্তব্যে বলেন, প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার রোগী রামেক হাসপাতালে ভিড় করছেন। দেড় হাজার রোগীর জায়গা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

তাই মেঝেতেই বেড হিসেবে রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ফান্ড থেকে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪০০ রোগীর চিকিৎসা ফ্রিতে দেয়া সম্ভব। বাকি রোগীদের মধ্যে অনেক রোগীরা সর্বস্ব বিকিয়ে সেবা নিতে আসেন। অনেকের অপারেশন খরচ না থাকায় নজর এড়িয়ে তারা ফিরে যাচ্ছেন। সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে লোকবল ও জায়গা দুটোই বাড়ানো প্রয়োজন।

এছাড়া রামেক হাসপাতাল থেকে যেন রোগীদের বাইরে যাওয়া না লাগে এক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। সেই সাথে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নজর দেয়ার জন্য রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।