সৈয়দ শরীফ-এর ছড়ায় ছড়ায় সাক্ষাৎকার

আপডেট: মে ১৩, ২০১৭, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

সৈয়দ শরীফ একজন তরুণ ছড়াকার। ছড়া সাহিত্যে তাকে বলা যায় নতুন তারকার উদয়। বয়সে তরুণ হলেও তার অসাধারণ ছন্দ রস আর ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার ফলে পাঠক হৃদয়ে তিনি একটি আলাদা স্থান করে নিয়েছেন। নিয়মিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ লিখছেন বিভিন্ন লিটল ম্যাগে। ছড়া লেখার পাশাপাশি তিনি বেশ ভাল কবিতাও লেখেন। ছড়ার জগতে তার আগমন, বর্তমান অবস্থা, সামাজিক অপসংস্কৃতি, দেশের হালচাল নিয়ে ছড়ায় ছড়ায় একটি সাক্ষাতকার নিয়েছেন আরেক তরুণ ছড়াকার রায়হান ফেরদৌস।

রায়হান:
কোথায় বাড়ি কোথায় ঘর
কেমন আছেন ভাই?
কেমন করে ছড়ায় হাঁটা
জানতে আমি চাই।

শরীফ:
এই তো আছি, যাচ্ছে যে বেশ
ব্যস্ততাতে দিন,
সর্বপ্রথম আপনি আমার
শুভেচ্ছাটা নিন।
কুমিল্লাটা গ্রামের বাড়ি
বর্তমানে ঢাকা,
এই এখানেই হচ্ছে আমার
জন্ম হতে থাকা।
প্রথম ছড়া বৃষ্টি নিয়ে
লিখেছিলাম তাই,
কাবিরাপু বললো ‘যে তোর
আরও ছড়া চাই।’
সেই থেকে যে হলো আমার
ছড়া লেখা শুরু,
আমার বড় ভাইয়া হলো
আমার লেখার গুরু।

রায়হান:
নতুন যারা লিখছে ছড়া
কবিতা বা গল্প,
তাদের নিয়ে বলেন কথা
বেশি না হয় অল্প।

শরীফ:
এই আমিও নতুন; তবু
বলছি কিছু তাদের
এই ছড়াতে অল্প হলেও
হাঁটছি আগে যাদের।
বড্ড বেশি পড়তে হবে
লিখতে হবে আর
স¤পাদনা করতে হবে
ছড়াকে বারবার।
কবিতা নিয়ে যে আমি
বলছি না আর কথা,
গল্পেতে নেই এইতো আমার
কিঞ্চিৎ অভিজ্ঞতা।

রায়হান:
বই করেছেন বের হয়েছে
কয়টা হলো বলুন,
অল্প কথায় জবাব দিয়ে
সামনের দিকে চলুন।

শরীফ:
ইচ্ছে হলেই করা যেতো
কিন্তু আমার তা নাই,
ইচ্ছে শুধু হাতটা ছড়ার
একটু ভালো বানাই।

রায়হান:
ছন্দ রসের তালটাও ভাই
কখন হলো পড়া,
কবে কোথা প্রকাশ হলো
প্রথম লেখা ছড়া।

শরীফ:
ছন্দ রসের তাল পড়েছি
ছন্দ শেখার পরে,
প্রথম ছড়া প্রকাশিত
হয় গত বছরে।
সোনার দেশে ছেপেছিল
আমার প্রথম ছড়া,
সেই প্রেরণায় ছড়ার জগৎ
হচ্ছে এখন গড়া।

রায়হান:
সংসারেতে কে কে আছেন
কার সোহাগে মন জুড়ায়,
মনের কোকিল রাত জেগে আজ
কারই জন্য প্রাণ পুড়ায়।

শরীফ:
আব্বা আছেন আম্মা আছেন
আছেন সাথে ভাই বোনও,
রাত জেগে আজ প্রাণ পোড়ানোর
এমন মানুষ নাই কোনো।
তবে,
কাব্য-ছড়ার জন্য জাগি
হয়তো এটাই হবে।

রায়হান:
এবার বলুন নিজের কথা
কিসের ভেতর দিন কাটে,
ছড়ার প্রেমে বেহুঁশ হয়ে
মন বসে কি কাজ পাঠে।

শরীফ:
ছোট্ট যে এক ব্যবসায় আছি
এতেই কাটে দিন,
মন বসানো নিজের কাছে
বসছে প্রতিদিন।
ছড়ার প্রেমে বেহুঁশ যেমন
কর্মস্থলে তেমন,
কাজের ফাঁকেই করি আমি
ছন্দ-ছড়ার গেম অন।

রায়হান:
কার লেখাটা ভালো লাগে
বারে বারে পড়তে,
স্বপ্ন বুনেন তারই মতো
ক্যারিয়ারটা গড়তে।

শরীফ:
সবার লেখাই ভালো লাগে
পড়ি সেসব তাই,
সুকুমার বড়–য়ার ছড়ায়
সবচেয়ে মজা পাই।
তাঁর ছড়াতে রস আছে খুব
হাসির রাজা তিনি,
ছন্দে দারুণ রসগুলো সে
দিচ্ছে প্রতিদিনই।

রায়হান:
অবুঝ খোকা জঙ্গি ফাঁদে
হর হামেশা পড়ছে,
কী করনের আছে বলুন
জেনে শুনে মরছে।

শরীফ:
জঙ্গি হবে ওরাই,
দিব্যি যারা করছে নিজের-
ধর্ম নিয়ে বড়াই।
করার আছে অনেককিছুই
যদি ওরা সেসব
মানে, তবে থাকবে না আর
ওদের মনে এসব।
অনেক কু-জন থাকবে ওদের
করতে বিবেক ক্ষতি,
সতর্ক তাই থাকতে হবে
নিজ-জ্ঞানেরও প্রতি।
শ্রদ্ধা রেখে চলতে হবে
সবার প্রতি- আর
মুছতে হবে ভিতর থেকে
সকল কুসংস্কার।
তবেই,
জঙ্গি অনেক কম হবে- আর
জয় বিবেকের হবেই।

রায়হান:
যাদের লেখা কাঁদা ছড়ায়
স্বাধীনতার পথে,
তারা কি ভাই সঠিক পথিক
বলুন আপন মতে।

শরীফ:
ওরাই হলো কাল,
স্বাধীনতার বিপক্ষে আজ
দিচ্ছে যারা তাল।
যাদের ছড়া প্রায় দেখা যায়
পেপার-পত্রিকাতে,
ক’জন ছাড়া ওসব হলো
এ্যক্টর এখন তাতে।

রায়হান:
তরুণ হয়ে লেখার মেধায়
ফ্যান করেছেন জয়,
বুলেট গুলি আসতে পারে
করেন নাতো ভয়?

শরীফ:
কী যে বলেন ভাই,
ভয় পেলে কি চলবে? আমার
থাকবে কোনো ঠাই?
ভয় পেতে হয় তাদের,
কুসংস্কার আর ভয়ে ভয়ে
জীবন গড়া যাদের।

রায়হান:
প্যাঁচাল হলো অনেক তবে
করছি কথা শেষ,
বুকের ভেতর বল রেখে কন
কেমন আছে দেশ।

শরীফ:
দেশটা আছে ভালোই, যেন
তবু ভালো নেই,
অন্ধকার সমাজের মাঝে
শুদ্ধ আলো নেই।
শুদ্ধ হবে কবে,
প্রশ্ন টুটে উত্তরে মন
শান্ত কবে রবে !

রায়হান:
ভালোর ভেতর সুখেই থাকুন
বিদায় হলো বলা,
আপন ও পর সব ভুলিয়া
ছন্দতে হোক চলা।

শরীফ:
ভালো ছড়া পড়ে পড়ে
ছন্দেরও রস শিখুন,
ছন্দে চলুক আপনারও হাত
আরও ভাল লিখুন।
আপনার সাথে সময় আমার
কাটলো আহা বেশ,
ভালো থাকুন সুস্থ্য থাকুন
করছি কথা শেষ।