সোনাদিঘি ও ভুবনমোহন পার্ক দখলমুক্তের দাবিতে স্মারকলিপি

আপডেট: মে ৩, ২০১৭, ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ- সোনার দেশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদ ও নাগরিক সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকার মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মেয়র দফতরে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় শেষে নগরীর ঐতিহ্যবাহী সোনাদিঘি ও ভুবনমোহন পার্ক দখলমুক্ত করা, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ এবং সাইন বোর্ড ফি প্রত্যাহারের দাবিতে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়। স্মারক লিপি প্রদান অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলেন, সোনাদিঘি রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী একটি দিঘি। এই দিঘিটি ১৯২১ সালে রাজশাহীর মানুষের সুপেয় পানির সংস্থানের জন্য খনন করা হয়েছিল। শতবর্ষী এই দিঘিটি রাজশাহীর ইতিহাস ঐতিহ্যকে লালন করে। আমরা এই সোনাদিঘি পাড়ের বাসিন্দা। নগরবাসী সোনাদিঘীর পাড়ে খেলাধুলা করে এবং দিঘিতে সাঁতার কেটে বড় হয়েছি। এমনকি এই দিঘির পানি অনেকে আমরা পান করেছি।
ব্যবসায়ী নেতারা আরো বলেন, এই সোনাদিঘির সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক, আমরা কোন ভাবেই এর মৃত্যু ঘটাতে দিবো না। রাসিক মেয়রের নিকট জোর দাবি করে বলেন, সোনাদিঘিকে দখল মুক্ত করে এর প্রতিষ্ঠালগ্নের সীমানা ঠিক রেখে সংস্কারের মাধ্যমে এর সোভা বর্ধন করে রাজশাহীর জনগনকে উপহার দেয়া। কারণ ভুবন মোহন পার্ক রাজশাহীর একটি ঐহিত্যহাসিক স্থান। এই পার্কে নেতাজী সুবাস বসু, মাওলানা ভাষানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, মাদার বখস্সহ অনেক বিখ্যাত মানুষ এখানে বক্তব্য দিয়েছেন। এই পার্ক থেকে বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ আন্দোলন, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ অনেক ঐতিহাসিক আন্দোলন সুচীত হয়েছে।
মতবিনিময়ে বলা হয়, এই পার্কটি আমাদের মার্তৃভাষার ইতিহাসের স্মৃতি, এই পার্কটি আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতার ইতিহাসের স্মৃতি। এই পার্কটিকে কোন ভাবেই বিলুপ্ত হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের অনুরোধ অবিলম্বে ভুবন মোহন পার্ক দখল মুক্ত করে জনগনকে ফিরিয়ে দিন।
মেয়র মতবিনিময় শেষে রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদ ও রাজশাহী নাগরিক সমন্বয় কমিটির সকল দাবীর সাথে একমত প্রকাশ করে বলেন, সোনাদিঘির এক ইঞ্চি জায়গাও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না। অবিলম্বে সোনাদিঘি ও ভুবনমোহন পার্ক দখল মুক্ত করে জনগনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও সাইনবোর্ড ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের কাজ চলছে। নগরবাসীর জন্য খুব শীঘ্রই তা কার্যকর করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক, রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও নাগরিক সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মো. শামসুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ও সদস্য সচিব সেকেন্দার আলী, রাজশাহী নাগরিক সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক প্যানেলের সদস্য ভাষাসৈনিক মোশারফ হোসেন আখুঞ্জি, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি লিয়াকত আলী, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান খান, পুজা উদ্যাপন পরিষদ মহানগর সভাপতি বিমল কুমার সরকার, মহিলা পরিষদের রাজশাহী শাখার সভাপতি কল্পনা রায়, মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী বরজাহান, রেস্তোরা মালিক সমিতি রাজশাহী শাখার সভাপতি রিয়াজ আহম্মেদ খান, ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সহ-সভাপতি আলী আশরাফ খোকন, রাজশাহী পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাইফুল ইসলাম টুকু, সিটি করপোরেশন গোস্ত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আতাহার আলী প্রমুখ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ