সোনামসজিদ বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পথে ভারতে আটকে পড়েছে প্রায় ৬ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০১৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থল বন্দরে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশন বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলের কশিশনারের অহেতুক নানা ধরনের হয়রানির ফলে ভারতের মোহদীপুর স্থল বন্দরে প্রায় ৬ হাজার পণ্যবাহী ট্রাক আটকে পড়েছে।
এর প্রতিবাদে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ ও ভারতের মোহদীপুর স্থল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জানান।
সরজমিনে গেলে সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মো. মাইনুল হক বলেন, সোনামসজিদ স্থল বন্দরের যোগাযোগ ও ভৌগলিক সুযোগ সুবিধা থাকলেও একমাত্র কমিশনারের একের পর একের হয়রানির কারণে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং  ভোমরা স্থল বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনিসহ আরো কয়েক সদস্য জানান, ভারত থেকে বেলা ১১টায় পণ্যবাহী ট্রাক সোনামসজিদ স্থল বন্দরে প্রবেশ করলেও বিভিন্ন অজুহাতে ৩/৪ বার চেক করছে। ফলে ছাড় নিতে দেরী হওয়ায় গভীর রাত পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে গাড়ি পৌঁছানোর আগেই কোটি কোটি টাকা মূল্যের ফল ও কাঁচা পণ্য পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে করের পরিমান দিন দিন বৃদ্ধি হচ্ছে, অন্যদিকে ফল ও কাঁচামালের ক্ষেত্রে ১০% ছাড় বন্ধ করে দেয়ায় ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  শুধু তাই নয়,  যদিও সারা দেশে কোন স্থল বন্দরে ফরমালিন পরীক্ষা না হলেও আমরা প্রতি ট্রাকের ফল ও কাঁচামালের ফরমালিন পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। এর জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে শিবগঞ্জ পৌর মেয়রের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে শিবগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটেশন ইনস্ট্রাকটরের মাধ্যমে এসব কাঁচামালের ফরমালিন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন প্রতিদিন রীতিমত ফরমালিন পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু  কমিশনার সাফটা চুক্তি ভঙ্গ করে নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে একের পর এক হয়রানি করে চলেছে। অন্যদিকে ভারতের মোহদীপুর সিঅ্যান্ডএফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভূপন মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কমিশনার চরমভাবে হয়রানি করায় ভারতের মোহদীপুর স্থল বন্দরের বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক সোনামসজিদ স্থল বন্দরে প্রবেশে ও সেখান থেকে ফিরতে দেরী হচ্ছে। এর ফলে আমরা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পণ্যবাহী ট্রাকগুলো দ্রুত ছাড় করাতে ও সেখান থেকে ফিরতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমরা বর্তমানে কমিশনারের  বিদ্বেষের শিকার হয়েছি। কমিশনার সোনামসজিদ স্থল বন্দর দিয়ে ব্যবসা হতে দিবে না বলেই সোনামসজিদ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ২০৫ জন সদস্যকে দীর্ঘদিন ধরে চরমভাবে হয়রানি করে আসছেন। বর্তমানে আমাদের মোহদীপুর স্থল বন্দরে ফল ও কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যবাহী প্রায় ৬ হাজার ট্রাক আটকে আছে। গতকাল আমরা সোনামসজিদস্থল বন্দরে মাত্র ১৮টি ট্রাক ফল ও কাঁচামাল পাঠাতে পেরেছি। অন্যদিকে ভোমরা স্থল বন্দরে পাঠিয়েছি ৯৩ গাড়ি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সেখানে কোনো হয়রানি ছাড়াই গাড়ি তাড়াতাড়ি ছাড় পায় এবং অতিরিক্ত কর দিতে হয় না। অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থল বন্দরে একটি গাড়ি ছাড় করাতে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগে। তাই আমরা সোনামসজিদ স্থল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছি, হয়রানি বন্ধ না হলে আমরা পণ্যরফতানি বন্ধ করে দিবো। অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন ও কোষাধ্যক্ষ মাইনুল হক জানান, আমরা খুব শীঘ্রই আলোচনার মাধ্যমে বন্দরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিবো এবং হয়রানি বন্ধ করার ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয় নি।