সোনামসজিদ স্থলবন্দরে অতিরিক্ত সাড়ে ৫৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ


দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব বিভাগের ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সচেতনতায় চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন খাত থেকে ৫৩ কোটি ৬২ লাখ ৮১ হাজার ১৭৩ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর আগে ওই সমস্ত খাত থেকে অন্য কোন অর্থবছরে কোন রাজস্ব আদায় হয় নি।
সোনামসজিদ স্থলবন্দরের রাজস্ব অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর/১৬ হতে মে/১৭ মাস পর্যন্ত মাত্র ১০ মাসে ভারত থেকে আমদানিকৃত তাজা ফলের তিন হাজার ৭৩৩টি ট্রাক প্রবেশ করেছে। প্রতিটি ট্রাকের ওজন হয়েছে ১৭ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন এবং রাজস্ব আদায় হয়েছে ছয় লাখ ২১ হাজার ৯৪৭ টাকা। ১০ মাসে শুধু ফল থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৩২ কোটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৫১ টাকা। একইভাবে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেপ্টেম্বর/১৫ মাস হতে জুন/১৬ মাস পর্যন্ত ১০ মাসে ভারত থেকে তাজা ফলের পাঁচ হাজার ৬৫০টি ট্রাক প্রবেশ করেছে। প্রতিটি ট্রাকে ফলের ওজন হয়েছে ১৪ দশমিক ১৬ মেট্রিক টন এবং ট্রাক প্রতি রাজস্ব আদায় হয়েছে চার লাখ ৮১ হাজার ৪৯০ টাকা। সে হিসাবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শুধু ফল থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭২ কোটি ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫শ টাকা। চলতি অর্থবছরের ন্যায় ওজন ঠিকমতো হলে আরো রাজস্ব আদায় হতো ৭৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৫০ টাকা। অর্থাৎ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে ৭৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮২ হাজার ৫০ টাকা। অন্যদিকে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ফলের ট্রাকের ওজন ঠিকমতো হওয়ায় অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৫২ কোটি  ৪৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৮১ টাকা। যা এর পূর্বে কোন অর্থবছরে আদায় হয় নি।
ভারত থেকে পাথর আমদানির ক্ষেত্রে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেপ্টেম্বর/১৬ মাস হতে জুন/১৭ মাস  পর্যন্ত ১০ মাসে ভারত থেকে পাথর আমদানি হয়েছে ৩৩ হাজার ৯৭২ ট্রাক, প্রতি ট্রাকের গড় ওজন ৪৩ দশমিক ৪৮ মেট্রিক টন এবং প্রতি ট্রাক হতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৪৬৪ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই সময়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি হয়েছে ৪৯ হাজার ৪২৬ ট্রাক, গড় ওজন হয়েছে  ৩৪ দশমিক ৯৬ মেট্রিক টন এবং প্রতি ট্রাক হতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫২৮ টাকা। গড়ে প্রতি পাথরের ট্রাক হতে ৮ দশমিক ৫২ মেট্রিক টন বেশি পাথরের রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে পাথরের মূল্য ছিল ১৮ মার্কিন ডলার এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাথরের মূল্য ছিল ১৩ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিক টনে পাথরের মূল্য ৫ মাকিন ডলার কম হওয়ায় ওজন অনেক বেশি হলেও রাজস্ব বৃদ্ধি পায় নি।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য অর্থাৎ এসোটের্ড পণ্যের ক্ষেত্রে ট্রাক প্রতি গড়ে ১২ লাখ তিন হাজার ৯শ টাকা হারে ১০ মাসে মোট ১০৫ ট্রাক হতে রাজস্ব আদায় হয়েছে সাত কোটি ৯০ লাখ ৫ হাজার ৬৭৫ টাকা। অন্যান্য অর্থবছরের তুলনায় ট্রাক প্রতি বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে সাত লাখ ৫২ হাজার ৪৩৫ টাকা। অন্যদিকে গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১০ মাসে ভারত থেকে  অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য এসেছে ৩৯৮ ট্রাক এবং প্রতি ট্রাক পণ্য থেকে গড়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে চার লাখ ৫০ হাজার ৪৬৫ টাকা এবং মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৬৩ টাকা। অথচ ২০১৬-১৭ অর্থবছরের অনুপাতে রাজস্ব আদায় হলে আরো বেশি রাজস্ব আদায় হতো প্রায় ৭৫ কোটি টাকা।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০ মাসে ভ্রমণ কর হতে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা এবং গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক কোটি  ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার ৭৫০ টাকা। অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ টাকা। শুধু তাই নয়, সোনামসজিদ স্থলবন্দর স্থাপণের পর গত অর্থবছরে প্রথম বারেরমতো যাত্রী ব্যাগেজের অতিরিক্ত মালামাল হতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২১ লাখ ১১ হাজার ২৬৭ টাকা। যার এর পূর্বে যাত্রীদের অতিরিক্ত মালামাল হতে কোন রাজস্ব আদায় হতো না এবং কোন তথ্য নেই।
এ ব্যাপারে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলাম জানান, রাজস্ব আদায়েরা ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনে চললে ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় সততার সঙ্গে ব্যবসা করলে রাজস্ব বৃদ্ধি পায়, বন্দরের সকলের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিলতা কমে আসে। সেই সঙ্গে বন্দরের ও সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে আমরা এবারই প্রথম কয়েক কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করেছি। যা এর আগে ওই সমস্ত খাতের কোন তথ্য ছিল না এবং কোন রাজস্ব আদায় হতো না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ