সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হচ্ছে রেললাইন ।। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

আপডেট: ডিসেম্বর ১০, ২০১৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ

ইমতিয়ার ফেরদৌস সুইট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর সোনামসজিদ পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হচ্ছে। সবকছিু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই এই প্রকল্পের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়টি এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা মাত্র। জেলা থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে বাধা কাটাতে আমনুরায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় দুই কলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস রেলপথ। খুব দ্রুতগতিতে এগুচ্ছে এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। প্রকল্প সংশিষ্টরা জানালেন আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে বড় দুইটি প্রকল্প পদ্মা সেতু ও রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ভারত থেকে আনা সিংহভাগ পাথর আসছে এই সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে। এছাড়া উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ভারত থেকে অন্য পণ্য আমদানির জন্যেও সবচেয়ে ভালো রুট হচ্ছে সোনামসজিদ। তাই সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে এসে এই দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু ও সোনামসজিদ স্থল বন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক এই প্রকল্প বাস্তবায়ের কাজ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন। গত ২ ডিসেম্বর এই প্রকল্পের সম্ভব্যতা যাচায়ের জন্য সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে তিনি জানিয়েছেন আগামী বছরেই এর কাজ শুরু হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ স্থরবন্দরে লাইন সম্প্রসারণের জন্য মহানন্দা নদীতে একটি রেল সেতুসহ প্রায় ৪০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করতে হবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালকের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ জানান, এর ফলে ভারতের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এ রেল চালু হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য খুব অল্প খরচেই দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আরেক প্রকল্প জেলা থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে বড় বাধা দাঁড়ায় আমনুরা রেল জংশন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে বর্তমানে আমনুরা রেল জংশনে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে রাজশাহী রুটে চলাচল করতে হয়। এতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। সেই বাধা কাটাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা রেল জংশনের প্রায় পশ্চিমে পাবনার ইশ্বরদী বাইপাসের আদলে ২ কিলোমিটার বাইপাস রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। ‘আমনুরা বাইপাস রেল লাইন নির্মাণ’ প্রকল্প নামে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি ১৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পের কার্যাদেশ পায় ঢাকার ম্যাক্স ইনফ্রাস্টাকটর লিমিটেড নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৯ মাস আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এগুচ্ছে খুব দ্রুতগতিতে। প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এরই মধ্যে দুই কিলোমিটার রেলপথের বেড ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্টাকটর লিমিটেডের প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে চার মিটার দৈর্ঘ্যরে তিনটি কালভার্ট রয়েছে। এছাড়াও আমনুরা বাইপাস রেল স্টেশন নামে একটি নতুন স্টেশন ভবনও নির্মাণ করা হবে। তিনি আরো জানান, বতর্মানে প্রকল্পের ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি। এরপরেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-ঢাকা রুটে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।