সোনার দেশে খবর প্রকাশের পর ব্রিজে যুক্ত হলো সংযোগ সড়ক

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

ইমরান হোসাইন, তানোর


ব্রিজে সংযোগ সড়ক নির্মানের পর পরিদর্শন করেন ইউএনও শওকাত আলী ও ইউপি চেয়ারম্যান আ. মালেক সোনার দেশ

রাজশাহীর তানোরে সরনজাই ইউনিয়নের তাঁতিহাটি খাড়ির উপরে অরক্ষিত বাঁশের সাঁকো। তার উপর দিয়েই ৫০ বছর ধরে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ আশেপাশের ইউনিয়নগুলোতে যাতাযাত করতেন। শুধু তাই নয়, ওই বাঁশের সাঁকোতে কোন সংযোগ সড়কও ছিলো না। ফলে মানুষের যেমন সমস্যা হতো, তেমন বাঁশের সাঁকো পার হতে অনেকেই ছোট দুর্ঘটনার শিকার হতেন।
স্থানীয় চেয়ারম্যান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসারের মাধ্যমে খাড়িটির উপরে সংযোগ সড়ক ছাড়াই ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এনিয়ে সোনার দেশ পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। খবরে টনক নড়ে প্রশাসনের। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণে উদ্যোগ নেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউএনও।
তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ থেকে তাঁতিহাটি ফুটবল মাঠ পর্যন্ত ৬শ মিটার রাস্তার নিজ উদ্যোগে তৈরি। এ রাস্তা দিয়ে সরনজাই ইউনিয়নের সঙ্গে পাশের গোদাগাড়ী উপজেলার ঋষিকুল ও পাঁকড়ি এবং তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন ও মুণ্ডুমালা পৌরসভার যোগাযোগ স্থাপিত হলো।
প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার মানুষ এমন একটি রাস্তার দিকে মুখ চেয়ে ছিলো। চলতি বছরের শুরুতে তাঁতিহাটি খাড়ির উপরে ব্রিজ নির্মাণ শুরু হলেও ছিলো না কোন সংযোগ সড়ক। ফলে সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত ব্যাপারে খবর প্রকাশিত হয়। এরপর টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। অবশেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তাগাদায় সরনজাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আ. মালেক নিজ উদ্যোগে রাস্তার কাজটি করেন।
চেয়ারম্যান আ. মালেক জানান, সড়ক নির্মাণের বিষয়ে অনেকদিন ধরেই এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ছিলো। সে কারণে স্থানীয় সাংসদ ওমর ফারুক চৌধুরীকে বিষয়টি জানানো হয়। সাংসদ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংযোগ সড়ক নির্মাণে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. শওকাত আলীকে নির্দেশ দেন। এছাড়াও তিনি সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।
চেয়ারম্যান আ. মালেক আরো বলেন, রাস্তাটি নির্মাণে তার বহুদিনের ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ অনেক জটিলতা পেরিয়ে রাস্তাটি করতে বেশ দেরি হয়ে যায়। রাস্তাটি নির্মাণে স্থানীয় এলাকাবাসী যে সহযোগিতা করেছেন তার জন্য তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের দুঃখের সময় পাশে থাকতে পারলে ভালো লাগে। যতদিন সামর্থ থাকবে ততোদিন সমাজের উন্নয়নের কাজ করে যাবো।
এর আগে ২০১৬ সালে রাজশাহী জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আবদুল মালেক। এবারই প্রথম তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে বিজয়ী হন। তার আগে তিনি বিএনপি প্রার্থী মোজাম্মেল হকের কাছে ১৯ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা. শওকাত আলী বলেছেন, প্রাথমিক অবস্থায় কাঁচা রাস্তাটি নির্মাণে দুই লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এরআগে ব্রিজ নির্মাণে ৩২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। মাটির রাস্তাটি শক্ত হলে পাকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ