সোনার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর বাঘায় প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের আশ্বাস

আপডেট: May 31, 2020, 10:25 pm

আমানুল হক আমান, বাঘা :


বাঘায় বিল পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা- সোনার দেশ

‘রাজশাহীর বাঘায় বিলে পুকুর খননের কারণে তলিয়ে গেছে ধান” শিরোনামে রোববার (৩১ মে) দৈনিক সোনার দেশে সংবাদ প্রকাশের পর পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের আশ্বস্ত করা হয়েছে স্থানীয়দের। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওই বিল পরিদর্শন করেন।
এদিকে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ডুবে যাওয়া সমস্ত ধান মাঠ থেকে সংগ্রহ করতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও চাষিদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
বাজুবাঘা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর আবদুল লতিফ বলেন, এই বিলের আওতায় চাষিদের সারা বছরের ধান ঘরে উঠতো। বর্তমানে পুকুর কাটার কারণে পাকা ধান কাটতে পারছে না কৃষক। ফলে বেকায়দায় রয়েছে শতাধিক ধান চাষি। তবে প্রকল্প তৈরি করে এর স্থায়ী সমাধান করার দাবি জানান তিনি।
নওটিকা গ্রামের ধান চাষি বয়েজুল ইসলাম বলেন, এই বিলে তিন বছর আগেও গমের আবাদ হতো। অর্ধশতাধিক পুকুর কাটার কারণে এখন সারা বছর পানি জমে থাকে। এই পানি জমে থাকার কারণে সময় মতো ধানের আবাদ করা যাচ্ছে না। তবে কেউ কেউ আবাদ করলেও ধান পাকার আগেই আবার বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে ধানের আবাদ করার পরও এখনো কিছু জমির ধান পানির মধ্যে রয়েছে। এখনো কাটতে পারিনি। তবে খননকৃত পুকুরগুলোর পাড় কেটে দিয়ে আগের মতো করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান বলেন, এই বিলের পানি বের করতে হলে ব্যক্তি মালিকানা ২০-২৫টি বাড়ি আছে। তাদের তালিকা তৈরি করে জমি অধিগ্রহণ করে পূর্বের খাল খনন প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে ডুবে যাওয়া ধান মাঠ থেকে সংগ্রহ করতে চাষিদের সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, এই এলাকায় গত বছর সরকারিভাবে খাল খনন শুরু করা হয়েছিল। খাল খনন করতে গিয়ে স্থানীয়রা বাধা দিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তারপর ওই খাল খনন বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে বরেন্দ কর্তৃপক্ষ, কৃষি অফিস ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্থায়ী সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা উপরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, এটি সময়ের ব্যাপার। পূর্ব দিক দিয়ে হোক আর দক্ষিণ দিয়ে হোক একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, উপজেলার নওটিকা-ধন্দ-আরিফপুর বিলে দুই বছরের ব্যবধানে অর্ধশত পুকুর খনন করা হয়েছে। এই বিলে পুকুর খননের কারণে বৃষ্টির পানি বের হতে না পারায় শতাধিক বিঘার ধান পানিতে ডুবে আছে। এই পরিস্থিতির জন্য এলাকার প্রভাবশালীদের দায়ী করছেন বিলের ধানচাষিরা। এদিকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে এ দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ