সোনার মেয়েদের স্বর্ণালি আনন্দভ্রমণ তবুও বাফুফে প্রশংসার দাবি রাখে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

সাফ ফুটবলে মেয়েদের সাফল্য দেশবাসীকে অভিভুত করেছে। সাফ চ্যাস্পিয়নশিপ অনেক দিক থেকেই আলোকিত করেছে। দেশের মেয়েরা ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মেয়েদের কর্মকা- যে কতটা সদর্থক, উন্নয়নমুখি এবং প্রচলিত ধারণার বাইরে এক নতুন প্রত্যয়- তা খেলার ইতিহাসে স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকলো। যে প্রত্যয় নারী শক্তির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে আসতে সহায়ক হয়েছে। ফুটবলের এই জয় নারীর বিরুদ্ধে যে বিদ্বেষ-বিষোদগারে যারা আছেন তাদেরকে একটা বড় চপেটাঘাতই বটে।
দেশের মানুষ প্রাণভরে মেয়েদের এই সাফল্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস করেছে। মেয়েদের কৃতিত্বের জন্য এমন বাঁধভাঙ্গা আবেগ বোধ করি এই প্রথম। এটিও এক নতুন ধারার সূচনা- যে কৃতিত্ব শুধু ছেলেদের জন্যই নয় মেয়েরাও কৃতিত্ব অর্জনে সমান পারদর্শী। সেই উপলব্ধি দেশের মানুষকে জাগরিত করেছে। আমরা সেটাই দেখলাম নেপাল ফেরৎ সাফজয়ী মেয়েদের বরণে আবেগ-উত্তেজনা আর আনন্দ- উদ্ভাসে শাহজালাল বিমান বন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত বাঁধভাঙ্গা উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে। প্রচ- গরমেও উৎসাহে কমতি ছিল না। আর এই ভালোবাসার জবাব দিয়েছেন সাবিনারা একটু অন্যভাবে। সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি নিয়ে ছাদখোলা বাসে করে সাবিনা-সানজিদারা শহর প্রদক্ষিণ করে ফুটবলপ্রেমীদের অভিবাদনের জবাব দিয়েছেন। সত্যিই এই দৃশ্য বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিরল! এমন বাধভাঙ্গা উল্লাস, বল্গাহীন আনন্দ আগের সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। অনন্য অর্জনে উৎসবে মেতেছিল সবাই।
নিশ্চয় এই আয়োজনের জন্য বাফুফে প্রশংসার দাবিদার। তবে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, সাফজয়ীদের জন্য এই যে আয়োজন শুধু ওই মেয়েদেরই সম্মানিত করেনি, পুরো দেশবাসীকেই জয়োৎসবের আনন্দ দিয়েছে- সম্মানিত করেছে। এটা দয়া বা করুণা ভাবাটা আহম্মকিই হবে। তবে বাফুফে কর্তৃপক্ষের জান্তে বা অজানান্তে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে গেলÑ যা আগামীতে অবশ্য পরিতাজ্য হবে, বা হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।
সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি এসেছে। বিষয়টা কেবল দৃষ্টিকটুই নয়, দুঃখজনকও। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয় করে যারা দেশকে গর্বিত করেছেন, তারাই কিনা সংবাদ সম্মেলনে অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন পেছনে!
বুধবার রাতে বাফুফে ভবনে সাফজয়ী দলের যে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিল, সেই মঞ্চে জায়গা হয়নি নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন ও অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের। মঞ্চ দখল রেখে রেখেছিলেন কর্মকর্তারা। এই আচরণ মোটেও কাম্য ছিল না। নেপাল থেকেই মেয়েদের আরো দায়িত্বশীল উপায়ে আনা যেতে পারতে। বাফুফের কর্মকর্তা উড়ে গিয়ে বিজয়ী মেয়েদের সাথে একাত্মত্বা জানাতে পারতেন। এ ক্ষেত্রেও অজুহাত সামনে আনা হয়েছে। অজুহাতে কোনো যুক্তি থাকে না। বরং যা করণীয় ছিল তা করা হয় নি। এসব কিছুকে আমরা ত্রুটি হিসেবেই বিবেচনা করতে চাই। কিন্তু এর উত্তম পন্থা হলো ওই একই ত্রুটি যাতে পুনর্বার না হয়, সেটার নিশ্চয়তা বিধান করা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ