সোনালী ব্যাংককে জরিমানা ।। দোষীদের শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়

আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতের টাকা ফেরতের কোনো সুরাহা না হতেই সোনালী ব্যাংক ইউকে শাখা নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। সম্ভাব্য মুদ্রা পাচার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য ৩৩ লাখ পাউন্ড যা বাংলাদেশি মূল্যে ৩৩ কোটি টাকা জরিমানা গুণতে হচ্ছে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত এই বাণিজ্যিক ব্যাংকটিকে। দেশটির আর্থিক খাত তদারককারী কর্তৃপক্ষ এফসিএ (ফিন্যানন্সিয়াল কনডাক্ট অথরিটি) বুধবার সোনালী ব্যাংককে জরিমানা করার এতথ্য জানিয়েছে বলে রয়টার্স জানায়। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমেও এ খবর প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্ভাব্য মুদ্রা পাচার ঠেকাতে পদ্ধতি উন্নত করতে সোনালী ব্যাংককে ২০১০ সালে সতর্ক করেছিল এফসিএ। কিন্তু চার বছরেও ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে ব্যর্থ হওয়ায় এই জরিমানা করা হয়েছে। বিবিসির ভাষ্যমতে, এক গ্রাহকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের কাছে তথ্য চেয়েছিল এফসিএ, কিন্তু সাত সপ্তাহেও সেই তথ্য পাওয়া যায়নি।
এফসিএর তদন্তে উঠে এসেছে, ওই গ্রাহকের বছরে আয় ২৮ হাজার পাউন্ড, অথচ তিনি গত ১৮ মাসে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন ২৫ হাজার পাউন্ড, যা সন্দেহজনক। কিন্তু সোনালী ব্যাংক এর কোনো তদন্ত করেনি। এফসিএর নির্দেশে গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সোনালী ব্যাংকে নতুন হিসাব খোলা।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সোনালী ব্যাংক ইউকের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সমালোচনাও করেছে।
সোনালী ব্যাংককে নিয়ে এই পদক্ষেপে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাঙালিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, ব্যাংকের মধ্যে কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর দলাদলির ফল হল এটা। আর এতে দেশের ভাবমূর্তিই ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যুক্তরাজ্যে সোনালী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলেও নানা অনিয়মের কারণে ১৯৯৯ সালে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মানি এক্সচেঞ্জে সীমাবদ্ধ ছিল ব্যাংকের কার্যক্রম। ২০০১ সালে সোনালী ব্যাংক ইউকে নামে নতুন করে যাত্রা শুরু হয়।
এটা অনুমান করা কঠিন নয় যে, পুরো বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে নেন নি। তাদের সীমাহীন উদাসীনতাই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। বিষয়টি এখানেই শেষ নয়- এর মধ্যে ব্যক্তিবিশেষের স্বার্থ হাসিল এবং অনিয়মের সম্ভাবনা থেকেই যায়। এফসিএর পদক্ষেপে সোনালী ব্যাংককে যেমন জরিমানা গুণতে হবেÑ তার চেয়েও বড় ব্যাপার হল বাংলাদেশে ভাবমূর্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি নিবিড় তদন্তের দাবি রাখে এবং এর জন্য যারা দায়ি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ