সোনালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার নামে অর্থ আত্মসাতের মামলা || দুদক’র অভিযানে একজন গ্রেফতার, অপরজন লাপাত্তা

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৭, ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গ্রেফতারকৃত হাসান মাহমুদ খালেদুল হক-সোনার দেশ

রাজশাহীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন হাসান মাহমুদ খালেদুল হক (৩৫) নামের সোনালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা। গ্রাহকের ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নগরীর ভেড়িপাড়া এলাকা থেকে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় তাকে গ্রেফতার করে। বিকেলেই নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়।
হাসান মাহমুদ খালেদুল হক সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী প্রিন্সিপাল অফিসে সংযুক্ত। অর্থ আত্মসাতের সময় তানোর শাখার সিনিয়র অফিসার হিসেবে দায়িত্বপালন করছিলেন তিনি। তিনি জেলার পবা উপজেলার ললিতাহার এলাকার একরামুল হকের ছেলে।
এছাড়া আরেকটি আত্মসাত মামলার আসামি ওই শাখার আইটি কর্মকর্তা নাজির হোসেন (৩৮)। তিনি নগরীর বহরমপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক নাজির। গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এ দুজনই এখন সাময়িক বরখাস্ত। এর আগে গতকাল সকালে ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তার নামে তানোর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দুটিরই বাদি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারি পরিচালক আরিফ হোসেন।
এর মধ্যে গ্রাহকের ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় হাসান মাহমুদ খালেদুল হকের বিরুদ্ধে। মামলা নম্বর ২৫। এছাড়া ৪১ লাখ ৪৬ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে নাজির হোসেনের বিরুদ্ধে। মামলা নম্বর ২৬। এ দুটি মামলাই তদন্ত করছেন দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল ইসলাম। তিনি জানান, এ ঘটনায় দুই ব্যাংক কর্মকর্তার নামে দুটি মামলায় দায়ের করেছে দুদক। ওই দুই মামলার এজাহারে তানোর সোনালী ব্যাংক এবং বিভিন্ন শাখার অনলাইন ব্যাংকিং এর লভ্যাংশের টাকাসহ ৫৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
তানোর সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, ২০১৫ সালের ২৪ জুন নাজির হোসেন কম্পিউটারে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংকের জিএল ফান্ড থেকে ৬৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এনিয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি।
ওই মামলায় নাজির হোসেন, তার বাবা গোলাম মোস্তফা, স্ত্রী সালমা জাহান লিমা এবং সহকর্মী হাসান মাহমুদ খালেদুর হককে আসামি করা হয়। গ্রেফতার হলেও জামিন নিয়ে পরে আত্মগোপন করেন নাজির। ঘটনার পর ওই দুই ব্যাংক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।
দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, দুদকের অনুসন্ধানে সোনালী ব্যাংকের তানোর শাখার দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোট ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া যায়। ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হাসান মাহমুদ খালেদুল হক ২০১৫ সালে অন্যের নামে তিনটি অ্যাকাউন্টে ব্যাংকের বিভিন্ন খাত থেকে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা করেন। পরে সেসব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে আত্মসাত করেন।
তিনি আরও জানান, আরেক আসামি আইটি কর্তকর্তা নাজির হোসেন ২০১৫ সালে একজন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট অবৈধভাবে নিজের নামে করে ব্যাংকের বিভিন্ন খাত থেকে সেখানে ৪১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা করেন। পরে টাকাগুলো তুলে আত্মসাত করেন। অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ওই দুই কর্মকর্তা এখন সাময়িকভাবে বরখাস্ত রয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ