সোহরাওয়ার্দী-মুজিব সম্পর্ক (১৯৩৮-১৯৪৯)

আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

প্রফেসর ড. আবদুল খালেক


(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
শেখ মুজিব বয়সে তরুণ হলেও সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাঁকে কতটা গুরুত্ব দিতেন, এখানে তার একটি উদাহরণ তুলে ধরা যায়। মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন হবে। সেখানে নয়জন সদস্য থাকবে। তার মধ্যে নির্বাচিত সদস্য থাকবেন ৫ জন। অপর ৪ জন থাকবেন পদাধিকার বলে। পাঁচজন সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দী সাহেব একটু নমনীয় হয়ে ওঠেন। তিনি বলেনÑ “এখন পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম, গোলমাল করে কি হবে, একটা আপোস হওয়াই ভাল।” সোহরাওয়ার্দী সাহেবের আপোস প্রস্তাবের বিরোধী শেখ মুজিব পার্লামেন্ট বোর্ড সভায় বলিষ্ঠ কণ্ঠে সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে বলেছিলেনÑ “আপোস করার কোন অধিকার আপনার নাই। আমরা খাজাদের সাথে আপোস করব না। কারণ ১৯৪২ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে নিজের ভাইকে মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আবার তাঁর বংশের থেকে এগারোজনকে এম.এল.এ. বানিয়েছিলেন। এদেশে তারা ছাড়া আর লোক ছিল না? মুসলিম লীগে কোটারি করতে আমরা দিব না।”
সোহরাওয়ার্দী সাহেব শেখ মুজিবের কথাগুলো উপলব্ধির চেষ্টা করেন। সভা থেকে উঠে এসে তিনি তাঁর বাসায় শেখ মুজিব এবং তার অনুসারীদেরকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। শেখ মুজিবের ভাষায়Ñ “তিনি আমাদের নিয়ে বসলেন। আমি তাঁর কাছেই বসলাম। শহীদ সাহেব বললেন, “বুঝতে পারছি না তোমরা পাঁচটা সিটই দখল করতে পারবে কি না।” আমি বললাম, “স্যার, বিশ্বাস করেন, আমরা নিশ্চয়ই জিতব, খোদার মর্জি থাকলে আমাদের পরাজিত হবার কোন কারণ নাই।” আমি টেলিফোন তাঁর হাতে তুলে দিয়ে বললাম, “বলে দেন খাজা সাহেবকেÑ ইলেকশন হবে।” শহীদ সাহেব নাজিমুদ্দীন সাহেবকে টেলিফোন করে বললেন, “ইলেকশনই হবে। যাই হোক না কেন, ইলেকশনের মাধ্যমেই হবে।” এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট উপলব্ধি করা যায় শেখ মুজিব বয়সে তরুণ হলেও সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাঁকে কতটা গুরুত্ব দিতেন। নির্বাচনে সত্যি সত্যি সোহরাওয়ার্দী সাহেব এবং হাশিম সাহেব মনোনীত পাঁচজন প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয়েছিলেন।
১৯৪৫-৪৬ সালে ভারতের রাজনীতিতে জটিল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছিল। কংগ্রেস-মুসলিম লীগের দ্বন্দ্ব, বৃটিশদের নানা কলা-কৌশলের ফলে দেশে নানা অরাজকতা দেখা দেয়। বিশেষ করে পাকিস্তান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের কিছু কিছু অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। সোহরাওয়ার্দী সাহেব তখন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী। হিন্দু-মুসলমানদের দাঙ্গা থামানোর তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকায় ছুটে গেছেন। এতে হয়তো অনেক জীবন রক্ষা পেয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভীতির সঞ্চার হয়, তার দূর করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। যে কারণে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্টে দেশ ভাগ হয়ে যাওয়ার ফলে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মুসলমানগণ তাঁদের প্রিয় বাসভূমি ত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্তানে আসতে থাকেন, অপরদিকে পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দু সম্প্রদায় ব্যাপক হারে আশ্রয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। সোহরাওয়ার্দী সাহেব তাঁর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েও হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এবং দেশত্যাগ ঠেকাতে পারেন নি। শেখ মুজিব এই দুঃসময়ে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের পাশে থেকে তাঁকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়েছেন। পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের সাথে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের এমন বিপর্যয় ঘটবে, সোহরাওয়ার্দী সাহেব এবং শেখ মুজিব তা আদৌ ভাবতে পারেন নি। শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসী, সে কারণে তাঁকে উদ্বাস্তু হতে হয় নি, কিন্তু সোহরাওয়ার্দী সাহেবের উদ্বাস্তু হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না, কারণ তাঁর মূল বাসভূমি পাকিস্তানের কোন অংশেই ছিল না। সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে ভারতে একা ফেলে রেখে আসতে শেখ মুজিবের মন সায় দেয় নি। শেখ মুজিবের ভাষায়Ñ “তাঁকে রেখে চলে আসতে আমার মনে খুব কষ্ট হচ্ছিল।” … শহীদ সাহেবকে বললামÑ “চলুন স্যার পাকিস্তানে, এখানে থেকে কি করবেন?  তিনি বললেন, “যেতে তো হবেই, তবে এখন এই হতভাগ্য মুসলমানদের জন্য কিছু একটা না করে যাই কি করে? দেখ না, সমস্ত ভারতবর্ষে কি অবস্থা হয়েছে, চারদিকে শুধু দাঙ্গা আর দাঙ্গা। সমস্ত নেতা চলে গেছে, আমি চলে গেলে এদের আর উপায় নেই। তোমরা একটা কাজ কর, দেশে গিয়ে সাম্প্রদায়িক গোলমাল যাতে না হয়, তার চেষ্টা কর। …পাকিস্তানের মঙ্গলের জন্যই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হতে দিও না।”
শেখ মুজিব দেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করবার আন্দোলন শুরু হয়। ১৯ মার্চ জিন্নাহ সাহেব ঢাকায় এসে যখন ঘোষণা দেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা তখন ছাত্রদের কাছ থেকে প্রচ- আপত্তি উত্থাপিত হয়। শুরু হয় ভাষা আন্দোলন। শেখ মুজিব ছিলেন সেই ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি কারারুদ্ধ হন। তবে ছাত্রদের তীব্র আন্দোলনের কারণে তিনি জেলখানা থেকে মুক্তি পান।
১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পরলোক গমন করেন। খাজা নাজিমউদ্দীনকে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত করা হয়। পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী করা হয় জনাব নূরুল আমিন সাহেবকে। শুরু হয় ষড়যন্ত্রের রাজনীতি।
সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ভারতে অবস্থান মোটেই সম্মানজনক ছিল না। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে তাঁর এক ভাইয়ের কাছে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শেখ মুজিবের ভাষায়Ñ “সোহরাওয়ার্দী সাহেব সামান্য কিছু কাপড় ছাড়া আর কিছু নিয়ে আসতে পারেন নাই। ভারত সরকার তাঁর সর্বস্ব ক্রোক করে রেখেছে। অনেকে শুনে আশ্চর্য হবেন, শহীদ সাহেবের কলকাতায় নিজের বাড়ি ছিল না। ৪০ নম্বর থিয়েটার রোডের বাড়ি, ভাড়া করা বাড়ি। তিনি করাচীতে তাঁর ভাইয়ের কাছে উঠলেন, কারণ তার খাবার পয়সাও ছিল না।” (পৃ. ১২৯) লিয়াকত আলী খান সোহরাওয়ার্দী সাহেবের করাচী আসবার ঘটনাটি সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি। “ভারত কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে”, এমন কথা বলতেও লিয়াকত আলী খান কুণ্ঠা বোধ করেন নি। অপরদিকে পূর্ব পাকিস্তানে নাজিমউদ্দীন এবং নূরুল আমিন সাহেব তাঁদের নিজেদের স্বার্থে সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে উপেক্ষা করতে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী সাহেব করাচীতে ওকালতি শুরু করেন।
সোহরাওয়ার্দী সাহেব পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় তাঁর সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ স্থাপনে শেখ মুজিবের সমস্যা হয়। সোহরাওয়ার্দী সাহেব পাশে না থাকায় শেখ মুজিব খানিকটা অসহায় বোধ করতে থাকেন। এর মধ্যে মওলানা ভাসানী আসাম থেকে পূর্ব পাকিস্তানে চলে এসেছেন। মওলানা ভাসানীর সাথে শেখ মুজিবের  ঘনিষ্ঠতা জন্মে। ১৯৪৮ সালে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু হয় মুসলিম ছাত্রলীগের। ১৯৪৯ সালে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয় জনাব শামসুল হক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয় শেখ মুজিবকে। সে সময় শেখ মুজিব ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে কারাগারে আবদ্ধ ছিলেন।
শেখ মুজিব এক পর্যায়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে আসবার পর উপলব্ধি করতে পারেন আওয়ামী লীগে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নেতৃত্ব অপরিহার্য। মৌলানা ভাসানীও এ ব্যাপারে শেখ মুজিবের সাথে একমত হন। এই পর্যায়ে মৌলানা ভাসানী সোহরাওয়ার্দী সাহেব এবং মিয়া ইফতিখার উদ্দীন সাহেবের সাথে পরামর্শের জন্য শেখ মুজিবকে লাহোর যেতে বলেন।
শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে নানা রকম মামলা চাপানো হয়। যে কোন মুহূর্তে আবার গ্রেফতার হয়ে যেতে পারেন। কাজেই বিলম্ব না করে অনেক কষ্টে শেখ মুজিব মৌলানা ভাসানীর পরামর্শে লাহোর চলে যান। সোহরাওয়ার্দী সাহেব তখন নবাব মাসদোতের বাড়িতে থেকে তাঁর একটি মামলা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। শেখ মুজিবের ভাষায়Ñ “ভীষণ শীত। বেলা এগারোটার সময় নবাব সাহেবের বাড়িতে পৌঁছালাম। শহীদ সাহেব লনে বসে কয়েকজন এডভোকেটের সাথে মামলা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। আমি কাছে যেয়ে সালাম করতেই তিনি উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, “কিভাবে এসেছ? তোমার শরীর তো খুব খারাপ, কোথায় আছো?’ আমাকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। সকলকে বিদায় করে দিয়ে আমাকে নিয়ে বসলেন।  প্রত্যেক কর্মী ও নেতাদের কথা জিজ্ঞেস করলেন। পূর্ব বাংলার অবস্থা কি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তাও জিজ্ঞাসা করলেন। বাংলাকে তিনি যে কতটা ভালবাসতেন তাঁর সাথে না মিশলে কেউ বুঝতে পারতো না।” … শহীদ সাহেব আমাকে নিয়ে দোকানে গেলেন। তিনি নিজের কাপড় বানানোর হুকুম দিয়ে একটা ভাল কম্বল, একটা গরম সোয়েটার, কিছু মোজা ও মাফলার কিনে নিলেন এবং বললেন, কোন কাপড় লাগবে কি না।… বললাম, না আমার কিছু লাগবে না। তিনি আমাকে যখন গাড়িতে নিয়ে হোটেলে পৌঁছাতে আসলেন, জিনিসগুলো দিয়ে বললেন, “এগুলো তোমার জন্যই কিনেছি। আরও কিছু দরকার হলে আমাকে বোলো।” গরম ফুল হাতার সোয়েটার ও কম্বলটা পেয়ে আমার জানটা বাঁচল। কারণ, শীতে আমার অবস্থা কাহিল হতে চলেছিল।”
মৌলানা ভাসানী বুঝতে পেরেছিলেন শুধু পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী মুসলিম গঠন করলে সে আওয়ামী মুসলিম লীগ যথেষ্ট শক্তিশালী হবে না। প্রয়োজন নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করা এবং তা করতে হলে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নেতৃত্ব অপরিহার্য। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই মৌলানা ভাসানী শেখ মুজিবকে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
একদিকে আর্থিক সংকট, অন্যদিকে রাজনৈতিক বৈরিতা সবকিছু মিলিয়ে সোহরাওয়ার্দী সাহেব সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলেন। সোহরাওয়ার্দী সাহেব যে সময় ‘জিন্না আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছিলেন, ঠিক সেই সময় শেখ মুজিবের উপস্থিতি সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে খানিকটা পথের দিশা করে দেয়।  পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হলে ‘নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠন করা প্রয়োজন, এ বিষয়ে শেখ মুজিবের সাথে সোহরাওয়র্দী সাহেব একমত হন। তবে কাজটি  খুব সহজ নয়। শেখ মুজিবকে হোটেলে থাকবার ব্যবস্থা করে পশ্চিম পাকিস্তানের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিয়া ইফতিখার উদ্দিন, পীর মানকী শরীফ, গোলাম মোহাম্মদ লুন্দখোর, কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ, সর্দার আবদুল গফুর, সর্দার সেকেন্দার, শামীম জং, পীর সালাহ উদ্দিন প্রমুখ রাজনৈতিক নেতাদের সাথে শেখ মুজিবকে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেন সোহরাওয়ার্দী সাহেব। পশ্চিম পাকিস্তানে এক মাস অবস্থান করে  সোহরাওয়ার্দী সাহেব এবং পশ্চিম পাকিস্তানি নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শেখ মুজিব ‘নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠনের ব্যাপারে বেশ খানিকটা সাফল্য অর্জন করেন।
সোহরাওয়ার্দী সাহেব স্পষ্ট বুঝতে পারছিলেন ঢাকায় গেলেই শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করা হবে। শেখ মুজিবকে এই অবস্থায় ছেড়ে দিতে সোহরাওয়ার্দী সাহেবের খুব কষ্ট হচ্ছিল। তবু ছেড়ে তাঁকে দিতেই হবে। শেখ মুজিব তাঁর আত্মজীবনী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনÑ “সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে ছেড়ে আসতে আমার খুব কষ্টই হচ্ছিল, কারণ জীবনের বহুদিন তাঁর সাথে ঘুরেছি। তাঁর ¯েœহ পেয়েছি এবং তাঁর নেতৃত্বে কাজ করেছি। বাংলাদেশে শহীদ সাহেবের নাম শুনলে লোকে শ্রদ্ধা করত, তাঁর নেতৃত্বে বাংলার লোক পাকিস্তান আন্দোলনে শরীক হয়েছিল। যাঁর একটা ইঙ্গিতে হাজার হাজার লোক জীবন দিতে দ্বিধা বোধ করতো না, আজ তাঁর কিছুই নাই। মামলা পরিচালনা না করলে তাঁর খাওয়ার পয়সা জুটছে না। কত অসহায় তিনি। …কতদিনে আবার দেখা হয় কি কবে বলব? তবে একটা ভরসা নিয়ে চলেছি, নেতার নেতৃত্ব আবার পাব। তিনি নীরবে অত্যাচার সহ্য করবেন না, নিশ্চয়ই প্রতিবাদ করবেন। তাঁর সাংগঠনিক শক্তি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব জাতি আবার পাবে।”
সোহরাওয়ার্দী সাহেবের নেতৃত্বে শুধু নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় নি, ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগের বিপরীতে যে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় সেই যুক্তফ্রন্টেরও অন্যতম নেতা ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯৫৪ সালের সে নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে।  কাজেই সোহরাওয়ার্দী সাহেবের ব্যাপারে শেখ মুজিব যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন, তা পূর্ণ হতে বেশি সময় লাগে নি। ঘটনার এমন পারম্পার্য হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে শেখ মুজিবুর রহমানের গভীর আত্মিক সম্পর্কেরই বহিঃপ্রকাশ।
তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী: শেখ মুজিবুর রহমান
লেখক: *উপাচার্য, নর্থ বেঙ্গল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী; সাবেক উপাচার্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
হনরঁ.বফঁ@মসধরষ.পড়স।