সোহানের দুর্দান্ত দেড়শ, শিরোপার কাছে খুলনা

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৯, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


অনেকটা একার লড়াইয়ে দলকে বড় লিড এনে দিলেন নুরুল হাসান। নিয়মিত অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাকের অনুপস্থিতিতে খুলনার নেতৃত্ব পাওয়া এই কিপার-ব্যাটসম্যান খেললেন অপরাজিত ১৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এরপর জিয়াউর রহমানের দারুণ এক স্পেলে টালমাটাল ঢাকার দ্বিতীয় ইনিংস। দুইয়ে মিলে জাতীয় লিগে আবার শিরোপার সুবাস পাচ্ছে খুলনা।
শেষ রাউন্ডের ম্যাচে খুলনায় সোহানের দারুণ ইনিংসে সোমবার ১০০ রানের লিড পায় খুলনা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ঢাকা বিভাগ ১০ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট!
পরে তৃতীয় দিন শেষে তারা করেছে ৫ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে। খুলনাকে হারাতে হলে শেষ দিনে অভাবনীয় কিছু করতে হবে ঢাকার।
সোহান দিন শুরু করেছিলেন ৫৬ রানে। আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান তুষার ইমরান এ দিন আউট হন আর ৭ রান যোগ করেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দেশের সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মালিক তুষারের ৮২ রানের ইনিংসটি এবারের আসরে তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ।
এরপর অনেকটা একাই দলকে এগিয়ে নেন সোহান। খুলনার শেষ ৫ ব্যাটসম্যান মিলিয়ে করেছেন ৩ রান। কিন্তু ওই ৫ জনের সঙ্গে জুটিতেই সোহান তুলেছেন ৭৩ রান, তার নিজের অবদান তাতে ৬৯!
শেষ উইকেটে আব্দুল হালিমকে নিয়ে যোগ করেন মহামূল্য ৫১ রান। সেখানে হালিমের রান ছিল শূন্য! তবে ৪২ মিনিট উইকেটে কাটিয়ে দারুণ সঙ্গ দেন হালিম।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন সোহান ১৮১ বলে। এরপর তুলেছেন ঝড়। একশ থেক দেড়শতে যেতেই ছক্কা মেরেছেন ৬টি। তার ৫টিই মেরেছেন মোহাম্মদ শহিদের ২ ওভারে!
শেষ পর্যন্ত ১৩ চার ও ৭ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ২২৭ বলে ১৫০ রান করে। আগের দিন দুই উইকেট নেওয়া শুভাগত হোম এদিন নেন তিনটি। তিন মিডল অর্ডার তুষার, নাহিদুল ইসলাম ও জিয়াউরকে নিয়ে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ৫ উইকেট। ঢাকা ম্যাচের শেষ দুই দিন খেলছে ১০ জন নিয়ে। দ্বিতীয় দিনে মাঠে সতীর্থ আরাফাত সানি জুনিয়রের গায়ে হাত তুলে শেষ দুই দিনের জন্য বহিষ্কার হন ঢাকার পেসার শাহাদাত হোসেন। ১০০ রানের লিড পেয়ে উজ্জীবিত খুলনা এরপর বোলিংয়েও শুরুটা করে অসাধারণ। পায়ে ক্র্যাম্প করায় প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার আব্দুল হালিম এ দিন বোলিং করতে পারেননি। একই কারণে মাত্র ২ বল করে মাঠ ছাড়েন দলের আরেক পেসার রুবেল হোসেন। মাঠে থাকা দলের একমাত্র পেসার জিয়াউর জ্বলে ওঠেন এই সুযোগে। তিন বলের ব্যবধানে তিনি ফেরান আব্দুল মজিদ ও শফিউল হায়াতকে। নিজের পরের ওভারে নেন তাইবুর রহমানের উইকেট। মাঝের ওভারে উত্তম সরকারকে ফেরান বাঁহাতি স্পিনার মইনুল হাসান। ম্যাচ বাঁচাতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে ঢাকা। ইনিংস হার এড়াতে তখনও দরকার ৯০ রান! ৭৬ রানের জুটিতে ধাক্কা সামাল দেন রকিবুল হাসান ও অধিনায়ক শুভাগত হোম। ১১৪ বলে ৪২ রান করা শুভাগতকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাহিদুল ইসলাম। এরপর আরাফাতকে নিয়ে দিন পার করে দেন রকিবুল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা ১ম ইনিংস: ২৭৯
খুলনা ১ম ইনিংস: ১২৮ ওভারে ৩৭৯ (আগের দিন ২৫২/৩) (রবি ৪৫, এনামুল ৫০, অমিত ২১, তুষার ৮২, নুরুল ১৫০*, নাহিদুল ১৬, জিয়াউর ০, মইনুল ০, রুবেল ২, টিপু ১, হালিম ০; শহিদ ৩১-৯-১১৫-১, শাহাদাত ১২-২-৩০-০, নাজমুল ৩৮-৯-১১৪-২, তাইবুর ১৭-২-৫২-১, আরাফাত ৪-২-১১-০, শুভাগত ২৬-৫-৪৬-৫)
ঢাকা ২য় ইনিংস: ৪৪ ওভারে ১০২/৫ (উত্তম ৪, মজিদ ৫, শফিউল ০, রকিবুল ৩৯*, তাইবুর ১, শুভাগত ৪২, আরাফাত সানি জুনিয়র ৯*; জিয়াউর ১৩-৬-২৩-৩, রুবেল ০.২-০-৩-০, মইনুল ১১.৪-৩-১৯-১, নাহিদুল ১৩-২-৩৫-১, টিপু ৬-১-২০-০)