সৌদি আরবে নিহত বাগমারার সাইদুরের লাশ পেতে চায় পরিবার

আপডেট: জুলাই ৭, ২০২৪, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

সৌদি আরবে নিহত বাগমারার সাইদুরের লাশ পেতে চায় পরিবার

বাগমারা প্রতিনিধি:


সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ছোমাতি অঞ্চলের মুসাছানাইয়ায় সোফা কারখানায় বুধবার (৩ জুলাই) অগ্নিকান্ডের ঘটনায় চার বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগিপাড়া ইউনিয়নের বারুইহাটি গ্রামের মেহের সরদারের ছেলে সাইদুর রহমান সরদার (৫২) নামে এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার মরদেহ সেখান থেকে বাংলাদেশে পেতে চায় তার পরিবার। তার পাসপোর্ট নম্বর- বিএক্স ০৩২০৭৩৯।

ওই প্রবাসীর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এদিকে নিহতের পরিবার জানে না কি ভাবে লাশ দেশে আনতে হবে। রোববার বারুইহাটি গ্রামে নিহতের বাসায় গিয়ে দেখা যায় গ্রামের লোকজন, প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীদের ভিড় করে লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় নিহত সাইদুর রহমানের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত লাশ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন।

নিহতের পিতা মেহের সরদার নির্বাক হয়ে অস্পষ্ট স্বরে জানান, তোমরা আমার ছেলের লাশ এনে দাও। একই দাবী করেন, নিহতের বোন মেনুকা, চাচা নজরুল ইসলাম, মামা আজিজার রহমানসহ স্বজনরা। প্রতিবেশী শিক্ষক নার্গিস আরা জানান, সাইদুর রহমান খুব ভাল মানুষ ছিলেন। তার এক ছেলে রয়েছে। দ্রুত মরদেহ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান তিনি।

নিহতের ভায়রা একাব্বর হোসেন জানান, প্রায় পচিঁশ বছর আগে কর্মের তাগিদে সাইদুর রহমান সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাছানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরি কারখানায় কাজ করতেন। বুধবার (৩ জুলাই) সোফা কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বাংলাদেশের চার জনের মৃত্যুতে বাগমারার সাইদুর রহমান মারা যান। দুই বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেলে তিনি দেশে এসেছিলেন। তার একমাত্র ছেলে আবু বকর পাশর্^বর্তী আত্রাই উপজেলার বিয়াম ল্যাবোরেটরি স্কুলে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পিতা-মাতাকে হারিয়ে এতিম আবু বকর বারবার মূর্ছা যান। পিতার মরদেহ পেতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

নিহত সাইদুর রহমানের সহকর্মীদের বরাত দিয়ে নিহতের ছেলে আবু বকর জানান, গত মঙ্গলবার তার পিতাসহ ১৬ জন শ্রমিক ওই কারখানায় কাজ করছিলেন। এসময় আকস্মিক আগুন ধরে যায় কারখানাটিতে। কর্মরত ১১ জন শ্রমিক রক্ষা পেলেও সাইদুরসহ চারজন আর বের হতে পারেননি। তারা আগুনে পুড়ে মারা যান। বুধবার ওই ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আত্রাইয়ের শ্রমিক বাবুল হোসেন মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই ঘটনায় তিনিও সামান্য দগ্ধ হয়েছেন। তাছাড়া তাদের সঙ্গের চারজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। পিতার মৃত্যুর সংবাদে একমাত্র ছেলে আবু বকর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে রোববার বিকেলে নিহত সাইদুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের আহাজারি দেখা যায়। একমাত্র ছেলে আবু বকর ওরফে ফাহিম কোনো কথা বলতে পারছেন না। সে নির্বাক হয়ে আছে। দুই বছর আগে মা মারা যাওয়ার পর বাবাকে ভরসা হিসেবে পেয়েছিল। এখন সেটাও হারিয়ে ফেললো সে। তাকে ঘিরে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রতিবেশীরা। আবু বকরের খালা লাভলী আকতার বলেন, দুই বছর আগে আমার বোন মারা যায়্ এখন জামাইও মারা গেলো। একমাত্র ছেলে আবু বকর আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবে।

একই ভাবে বৃদ্ধ পিতা মেহের আলী সরদার ছেলেকে হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছেন। বৃদ্ধ বাবাও হতবাক। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অস্বাভাবিক আচরণ করছেন তিনি। আহাজারিতে সকলের কাছে ছেলের লাশ দেশে এনে দাফন করতে সহযোগীতা চাইছেন কর্তৃপক্ষের।

এ বিষয়ে যোগিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন। লাশ দেশে ফেরত আনতে সার্বিক ভাবে চেষ্টা করবেন তিনি। একই ভাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আল রানা বলেন, তার দপ্তর থেকে সহযোগিতা করা হবে।
এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ দেশে ফেরত নিতে সর্বাত্মাক চেষ্টা করা হবে এবং সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা থাকলে সে ব্যাপারেও সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ