সৌম্যর পরামর্শেই তাসকিনের হ্যাটট্রিক

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার হিসেবে ডাম্বুলায় হ্যাটট্রিক করেছেন তাসকিন আহমেদ। শ্রীলঙ্কার ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে শুরু হয় তাসকিনের হ্যাটট্রিক মিশন। পরপর দুই বলে গুনারতেœ ও লাকমালকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন তিনি।
এই কীর্তির সামনে দাঁড়িয়েও স্বাভাবিক ছিলেন তাসকিন। তার স্বাভাবিক থাকা দেখে কিছুটা ভড়কে যান সতীর্থ সৌম্য সরকার। দ্রুত তাসকিনকে বলেন ‘এটা তোর হ্যাটট্রিক বল, সেভাবেই কর’। বাংলা ট্রিবিউনকে তাসকিন বলেছেন, “যখন পঞ্চম বল করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, সৌম্য দৌঁড়ে এসে বলল, ‘এটা তোর হ্যাটট্রিক বল, ইয়র্কার টাইপের কিছু একটা মার।’ মাথায় তখন ঢুকে গিয়েছিল, হ্যাটট্রিকটা পেতেই হবে!”
সৌম্যর কাছেও জানতে চাওয়া হলো হঠাৎ করেই কেন তাসকিনকে পরামর্শ দিতে এগিয়ে গেলেন। সৌম্যর হাসিমাখা উত্তর, ‘এর আগেও একবার হ্যাটট্রিক মিস করেছে ও। তা ছাড়া পঞ্চম বল করার আগে ওকে খুব স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল। আমি কনফিউজ হয়ে ওকে ইয়র্কার টাইপের কিছু একটা দিতে বলেছিলাম।’
ইনিংসের পঞ্চম বলে ব্যাটসম্যান ছিলেন পেসার নুয়ান প্রদীপ। দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তাসকিনের জন্য শেষ ব্যাটসম্যানকে আউট করা খুব কঠিন ছিল না। সৌম্যর কথা মতো ইয়র্কারে পরাস্ত করে ক্লিন বোল্ড করলেন প্রদীপকে। ক্যারিয়ারে অনেক ভালো ভালো বল করেছেন তাসকিন, কিন্তু তার ক্যারিয়ার সেরা হিসেবে শেষ বলটাকেই বেঁছে নিয়েছেন তিনি, ‘হ্যাটট্রিক বল করার আগে নার্ভাস ছিলাম না। অন্য সময়ের চেয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। এই তিনটি বলকে ক্যারিয়ারের সেরা বল বলব না। তবে নুয়ান প্রদীপকে করা শেষ বলটি অবশ্যই ক্যারিয়ার সেরা বল।’
লঙ্কান এই ব্যাটসম্যানের উইকেট উপড়ে দিয়ে চিরচেনা সেই উদযাপনে মাতলেন তাসকিন। ওই মুহূর্তের পর রেকর্ডবুকে ঢুকে গেলেন বাংলাদেশের পেস তারকা। শেষ পর্যন্ত ৮.৫ ওভারে ৪৭ রান খরচায় চারটি উইকেট নিয়েছেন এই তরুণ। সেই অনুভূতি ভাগাভাগি করলেন এভাবে, ‘এর আগে কয়েকবার হ্যাটট্রিকের কাছে গিয়েও ফিরে এসেছি। এবার মন বলছিল কিছু একটা হবে। শেষ পর্যন্ত হয়েছে। সত্যি কথা বলতে অসাধারণ অনুভূতি। সতীর্থরা সবাই বাহবা দিচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।’
হোটেলে ফিরতে ফিরতেই বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলেছেন তাসকিন। ছেলের খেলা নিয়ে তাসকিনের বাবা-মা সব সময়ই খানিকটা উদ্বিগ্ন থাকেন। এবারও তাই ছিলেন। তাসকিন জানালেন, ‘বাবা-মা তো সব সময়ই টেনশন করে। তারা খুব খুশি। শুধু তাদের নয়, বাংলাদেশের সব মানুষকে খুশি করতে পেরে আমারও ভালো লাগছে।’-বাংলা ট্রিবিউন