স্কুলে স্কুলে নির্বাচনের চর্চা || বড়দের পারাটা খুবই জরুরি

আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রাজশাহীর স্কুলে স্কুলে স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। মাধ্যমিক ও নি¤œ মাধ্যমিক স্কুল ও দাখিল মাদ্রাসায় বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) উৎসবমুখর পরিবেশে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্কুলে স্কুলে নির্বাচিত হয়েছে একজন প্রধানমন্ত্রী ও সাতজন সদস্য। তারা আগামি এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে, স্কুলের বিভিন্ন কর্মকা-ে নেতৃত্ব দেবে।
নির্বাচন করতে তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা, যাচাই-বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার, নির্বাচন কমিশন, প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, ব্যালট পেপার, বুথ, স্বচ্ছ ভোটের বাক্স, উৎসাহ-উদ্দীপনা সবই ছিল। ছিল না শুধু পুলিশি নিরাপত্তা, টানটান উত্তেজনা আর বিশৃঙ্খলা।
নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই কেউ নির্বাচন কমিশনার, কেউ প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার আবার কেউ পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে। শিক্ষার্থীরাই আবার এ নির্বাচনের ভোটার। শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোথাও কোনো সময় হৈ-হট্টগোল হলে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্তরা গিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলেছে, ‘ভোটের দিনে কেউ গ-গোল করে পার পাবে না।’
ছোটদের ভোটে কী দারুণ শৃঙ্খলাবোধ- বড়দের ক্ষেত্রে তা হয় না কেন! বড়দের নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিকে তাকালে টানটান উত্তেজনা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, কালো টাকা ও পেশিশক্তির প্রদর্শন, হানাহানি- খুনখারাবি ও সন্ত্রাসের ঘটনা আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে। কিন্তু এসব কিছুতে রাজনীতিকদের তেমন কিছুই যায় আসে না। ক্ষমতাকে করায়ত্ত্ব করতে রাজনৈতিক কৌশলের নামে যা করা হয় তা অনেক ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রাকেও ছড়িয়ে যায়। এসব কারণেই নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির দাঁড় করাতে আমরা ব্যর্থ হচ্ছি।
রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক অনুশীলনের ধারাটিকে কোনোভাবে উন্নত করা যাচ্ছে না। রাজনীতিতে যে ভয়ঙ্কর দুর্বৃত্তায়ন ঘটে গেছে সেখান থেকে খুব সহজে বেরিয়ে আসা যাবে বলে মনে হয় না। দুর্বৃত্তরাই ক্রমশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল অনুঘটক হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলের অংশ হলেই রাজনীতিক হয়ে ওঠা যায় না তা বর্তমান রাজনীতির চেহারাটা দেখলেই বোঝা যায়। রাজনীতিক শব্দটায় যে সমীহের বিষয়টি এক সময় নিহিত ছিল, এখন তা ক্রমশই ক্ষীণ হয়ে আসছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলির নেতৃস্থানীয়দের অনেকেই সেই সমীহের অযোগ্য।
আজকের যে শিশুরা স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচনের মধ্য দিয়ে উন্নত গণতান্ত্রিক বোধের চর্চা করছে এক সময় তারাও হতাশ হবে এই ভেবে যে, তারা যা করছে, বড়রা তার ধারেকাছেও নেই। শিশুরা তো সেই স্বপ্নের কথাই বলছে যে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আমরা যে সখ্য দেখেছি, তা যদি জাতীয় নির্বাচনগুলোতে দেখা যেত তাহলে আমাদের দেশের অবস্থা আরো ভালো হতো। এই স্বপ্ন নির্মাণের কাজটিই হলো রাজনীতিকদের। এ ক্ষেত্রে তারা যেভাবে ব্যর্থ হচ্ছে তাতে করে শিশুদের সেই স্বপ্ন আর স্বপ্ন থাকবে না। সেও একসময় বড়দেরটাই সঠিক ও যথার্থ জ্ঞান করে নিজেদের স্খলন ত্বরান্বিত করতে পারে। অর্থাৎ আমরা আমাদের শিশুদের গণতান্ত্রিক বোধ তৈরি করার জন্য কোনো প্লাটফরম তৈরি করছি না। এটা খুবই উদ্বেগজনক ও হতাশার।
রাজনীতিকে দুর্বৃত্তায়নের কবল থেকে রক্ষা করতে রাজনৈতিক মূল্যবোধ যা আমরা শিশুদের মধ্যে জাগরিত করতে চাচ্ছি তা বড়দের মধ্যেও এর যথার্থ প্রতিফলন হওয়া অপরিহার্য। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে হলে এর আর কোনো বিকল্প আমাদের জানা নেই।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ