স্কুল তো নয় যেন গরুর খামার!

আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৭, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

জালাল উদ্দিন, সাঁথিয়া


এমনই গরুর খামার হয়ে উঠেছে সাঁথিয়ার গৌরীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় -সোনার দেশ

পাবনার সাঁথিয়ার প্রায় শতবর্ষী গৌরীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। খেলাধূলার মাঠটি পুকুরে বিলীন হয়ে এখন দ্বিতল ভবনটি পুকুরে ধসে পড়ার অপেক্ষায়। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই চলছে পাঠদান। যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সেই সঙ্গে টিনসেড ঘরটি যেন গরু ছাগলের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি স্কুল না গরুর খামার। এমন অবস্থা হলেও যেন দেখার কেউ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের গৌরীগ্রামে ১৯৩৫ সালে ৫৭ নম্বর গৌরীগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এলজিইডি’র অর্থায়নে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছরে ৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। এর আগে সরকারিভাবে একটি টিনশেড ওয়াল ঘর নির্মিত হয়েছিল। বিদ্যালয়টিতে ১৮৪ জন শিক্ষার্থী ও ছয় জন শিক্ষক রয়েছেনে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে গরু-ছাগল রাখার কারণে মলমূত্র থাকায় সব সময় অপরিস্কার ও অপরিচ্ছন্ন থাকে এবং টিনশেড ঘরটিতে ক্লাস নেওয়ার কোন উপায় থাকে না। স্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলাধূলার জন্য নেই কোন মাঠ। যেটুকু মাঠ ছিল তা পাশে পুকুরের মধ্যে ভেঙে গিয়ে বিলীন হয়ে গিয়েছে। এমনকি যে কোন সময় দ্বিতল ভবনটি পুকুরের মধ্যে ধসে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় সীমানা প্রাচীর করে মাটি দিয়ে ভারাট করে ভবন ও স্কুল মাঠটি রক্ষা করা যেতে পারে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে স্কুলটিতে গিয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মারুফ ও চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তামিম বলে, মাঠ না থাকায় আমরা খেলধূলা করতে পারি না। সেই সঙ্গে ভয়ে ভয়ে ক্লাস করতে হয়, কখন দালানটি পুকুরের মধ্যে ধসে পড়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপক কুমার জানান, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর না থাকায় মাঠ ভেঙে পুকুড়ে চলে যাচ্ছে এবং ভবনটিও যেন কখন ধসে পুকুড়ে চলে যায়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে আমাদের।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমীর হোসেন জানান, সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে ভবন পরিষ্কারের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে লিখিতভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পুকুরটি ভরাটে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ