স্কুল থেকে উঠিয়ে নিয়ে শিশু নির্যাতন || দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

বড়দের বিরোধের জেরে শিশু নির্যাতনের ঘটনা নেহাতই কম নয়। শিশুরা নির্মম প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে- তাদের হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র স্বার্থের কারণে মানুষ কী ভয়ঙ্কর আচরণ করতে পারে এ ধরনের ঘটনা তারই প্রমাণ দেয়। মানুষের এই নিষ্ঠুরতাকে কোনো অর্থেই মেনে নেয়া যায় না।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনা গত রোববারের।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী মোহনপুর উপজেলার গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে আনোয়ার হোসেন আনু ও তার স্ত্রী মিলে বাড়িতে আটকে রেখে মারপিট ও শারীরিক নির্যাতন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের শিক্ষকসহ স্থানীয়রা আহত দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করেছেন। এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোহনপুর থানা ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শিশুর প্রতি নির্যাতন করে দায়মুক্তি এ সমাজেরই এক নিষ্ঠুর চিত্র। পরিবার থেকে শুরু করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সর্বত্রই শিশু নির্যাতনের বিষয়টি সমাজ নানাভাবে দায়মুক্তি দিয়ে থাকে। অধিকাংশ অভিভাবক মনে করেন, শাসনের জন্য একটু-আধটু শিশুকে মারপিট করাই যায়Ñ এটাকে তারা অন্য্য়া মনে করে না। আবার শিশুর প্রতি ভয়ঙ্কর সহিংসতা হলে তা প্রভাবশালীদের প্রভাবেও অনেক সময় দায়মুক্তি পায় বা সমঝোতা হয়ে যায়। সমাজের এই দুর্বলতার মধ্যেই শিশু নির্যাতন বা শিশুর প্রতি সহিংসতার উপাদান নিহিত আছে।
মোহনপুরের স্কুল থেকে শিশুকে উঠিয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগটি খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। স্কুল শিশুদের জন্য শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়Ñ স্কুল আনন্দের জায়গা, সম্পর্কে ও বন্ধুত্ব তৈরির জায়গা। স্কুলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা সহিংসতা হলে শুধু ঘটনার শিকার শিশুর জন্যই নয়- অপরাপর সব শিশুর মধ্যেই ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হতে পারে। আর এসব ঘটনার কোনো প্রতিকার না হলে শিশুদের মধ্যেও দায়মুক্তির নিরব গ্লানিবোধ সৃষ্টি হতে পারে যা শিশুকে অপরাধ প্রবণতায় উৎসাহিত করতে পারে। ঘটনা যদি স্কুল চত্বরেই হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে পুরো বিষয়টির দায় স্কুল কর্তপক্ষেরও থেকে যায়। জোরালো প্রতিবাদ ও অভিযোগ দায়েরের দায় তারা এড়াতে পারেন না।
যাহোক ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। দোষি সাব্যস্থ হলে যে বা যারাই ওই শিশুদের প্রতি সহিংসতা চালিয়েছে তাদের দৃৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে এটাই প্রত্যাশিত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ