স্টেইন-ফিল্যান্ডারদের ছাড়াই বাংলাদেশকে উড়িয়ে দেবেন রাবাদা!

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৭, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


জুলাই-আগস্ট ২০১৫। বাংলাদেশ সফরে এলো দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র টিনেজ পেরুনো কাগিসো রাবাদা জ্বলজ্বল করে জ্বলছেন। প্রোটিয়াদের তিন সংস্করণেরই ক্রিকেটেই জায়গা করে নিলেন। বাংলাদেশেই ওয়ানডে অভিষেক। আর অভিষেকে ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ফেললেন। আর অভিষিক্ত হিসেবে ইতিহাসের সেরা ফিগার নিয়েই ম্যাচ শেষ করলেন। ১৬ রানে ৬ উইকেট।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে এর চেয়ে বড় প্রেরণা আর কি লাগে রাবাদার? এই ২২ বছর বয়সেই শন পোলক, মাখায়া এনটিনি, ডেল স্টেইনদের মতো কিংবদন্তি দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট বোলারদের অনেক কীর্তি ছাপিয়ে গেছেন। এখন প্রোটিয়ারা টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের দুই নম্বরে। কিছুদিন আগেও দাপটে ছিল ১। আর সেটা রাবাদার ধারাবাহিক খুনে বোলিংয়ের কারণে মূলত। সেই রাবাদা বলতে গেলে এখন দলের পেস অ্যাটাকের নেতা। ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডাররা ইনজুরির কারণে বৃহস্পতিবার শুরু প্রথম টেস্টে নেই। বাংলাদেশকে তাদের ছাড়াই উড়িয়ে দেওয়ার অহঙ্কারী উচ্চারণটা তো করতেই পারেন রাবাদা। খেলাটা যে তাদের মাটিতেই। ফচেফসট্রুমে। দেশের মাটিতে খেলা এর আগের চার টেস্টের প্রতিটিতে বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর সুখস্মৃতি প্রোটিয়াদের।
রাবাদা অবশ্য ঠিক এভাবে বলছেন না যে উড়িয়ে দেবেন বাংলাদেশকে। কিন্তু তার কথার ভেতরে এমন অর্থ যে লুকিয়ে তা বোঝা যায়। এই যে বললেন, ‘ডেল এখন নেই। কিন্তু সে প্রমাণিত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে বিশ্বমানের। ভারননও তাই। আমাদের উঠে আসা খেলোয়াড়ও আছে। তাই বলতে পারেন ডেল ও ভারননকে ছাড়া কাজটা আমরা কতোটা কি করতে পারি তার বড় পরীক্ষা এটি।’ এরপরই রাবাদা বলছেন, ‘আমি খুব নিশ্চিত যে কাজটা আমরা করে দেখাতে পারবো।’
২০১৫ সালে টেস্ট অভিষেকের পর ২০ টেস্ট খেলেছেন ডানহাতি আগুন ঝরা পেসার। নিয়েছেন ৮৭ উইকেট। গড় ২৪.৫৬। ম্যাচে ১০ উইকেট ২ বার। ইনিংসে ৫ উইকেট ৫ বার। ইনিংসে ৪ উইকেট ৪ বার। ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্স ১৪৪ রানে ১৩ উইকেট। এসব পরিসংখ্যান বলে দেয় রাবাদা আসলে কি!
কিন্তু শেষ ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজটা ভালো যায়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। নিজেদের মাটিতে ওখান থেকে উঠে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সেসব ভুলে কিভাবে শ্রেষ্ঠত্বের পথে ফেরা যায় সেই ভাবনা রাবাদার মাথায়, ‘ইংল্যান্ডে আমরা খুব খারাপ খেলেছি তা নয়। আসলে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে কিছু কাজ করে ওঠা হয়নি। ওটা আমরা চিহ্নিত করেছি। এবার কাজে লাগাতে চেষ্টা করবো। সেই সাথে ফিরতে চাইবো জয়ের ধারায়।’ এর সাথে যেন মুশফিকুর রহিমের দলের জন্য হুমকির মতো করে বলে দেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই জানি কিভাবে জিততে হয়।’