স্ট্রোকের স্থায়ী ক্ষতি এড়াতে যে শব্দ মনে রাখবেন

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৯, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


প্রতীকী ছবি

স্ট্রোকের ঘটনায় যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বড় ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে। চিকিৎসকেরা বলছেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে কয়েকটি ঘন্টা শারীরিক ক্ষতির মাত্রায় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে- এ পার্থক্য নির্ভর করছে স্ট্রোকের উপসর্গ দেখা দেয়ার পর দ্রুত জীবন-রক্ষাকারী সেবা নেয়া হয়েছে নাকি হয়নি তার ওপর। যেহেতু স্ট্রোক খুব টাইম-সেনসিটিভ, তাই জরুরি মেডিক্যাল সেবার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিভাবে বুঝবেন যে আপনাকে মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে?
দুশ্চিন্তা করবেন না, দ্য আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন মনে রাখার সুবিধার্থে এমন একটি অ্যাক্রোনিম (কিছু শব্দের প্রথম অক্ষর নিয়ে গঠিত শব্দ) আবিষ্কার করেছে যেখানে বড় স্ট্রোকের তিনটি উপসর্গ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অ্যাক্রোনিমটি হলো: ফাস্ট (ইংরেজি অক্ষর এফ, এ, এস, টি)। চারটি অক্ষরে গঠিত ফাস্ট (ঋঅঝঞ) শব্দটি স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা গেলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অথবা জরুরি মেডিক্যাল সেবা গ্রহণ করতে জোর দিচ্ছে, কারণ এতে শরীরের স্থায়ী ক্ষতি এড়ানো যেতে পারে। এ অ্যাক্রোনিমের প্রথম তিন অক্ষরে স্ট্রোকের উপসর্গ রয়েছে, যেখানে শেষ অক্ষরটি এসব উপসর্গ লক্ষ্য করলে কি করতে হবে তা নির্দেশ করে। আসুন ফাস্ট’র-এর সকল অক্ষর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
* এফ : এই অক্ষর দিয়ে ফেইস ড্রুপিং বোঝায়, যার মানে হলো মুখ বাঁকা হয়ে যাওয়া। যদি কারো মুখের একপাশ বেঁকে যায় অথবা ঝুলে পড়ে অথবা অবশ হয়ে যায়, তাহলে এটি হচ্ছে স্ট্রোকের একটি অতি পরিচিত লক্ষণ। কারো মুখে এ লক্ষণটি দেখলে তাকে হাসতে বলুন- তার হাসি একপেশে বা ভারসাম্যহীন হলে এটা ধরে নিতে হবে যে শরীরে কিছু একটা ভুল হয়েছে।
* এ : এই অক্ষর দিয়ে আর্মস উইকনেস বোঝায়, অর্থাৎ বাহুতে দুর্বলতা। স্ট্রোকের ফলে একটি বাহু অসাড় বা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। কেউ তার এক হাত ওপরে ওঠাতে পারলেও অপর হাতটি ওপরে তুলতে ব্যর্থ হলে অথবা হাতটি নিচের দিকে ঝুলে পড়লে এটিকে বড় ধরনের সতর্ককারী লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
* এস : এই অক্ষর দিয়ে স্পিচ ডিফিকাল্টি বোঝায়, অর্থাৎ কথা বলতে সমস্যা। স্ট্রোকের আরেকটি সর্বাধিক পরিচিত লক্ষণ হচ্ছে অস্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলা অথবা কথা জড়িয়ে যাওয়া। কারো মধ্যে এ লক্ষণ লক্ষ্য করলে তাকে একটি সাধারণ বাক্য একাধিকবার বলতে বলুন- তার কথা বলতে সমস্যা হলে অথবা তার কথা বোঝা না গেলে তাকে জরুরি মেডিক্যাল সেবার আওতায় আনতে হবে।
* টি : এই অক্ষর দিয়ে টাইম টু কল ইমার্জেন্সি নম্বর বোঝায়, অর্থাৎ জরুরি মেডিক্যাল সেবার জন্য সংশ্লিষ্ট নম্বরে কল করতে হবে। কোনো লোকের মেজর স্ট্রোকের এ তিনটি উপসর্গের মধ্যে যেকোনো একটি থাকলে অথবা এমনকি কিছু সময়ের মধ্যে উপসর্গটি চলে গেলেও জরুরি মেডিক্যাল সেবা পেতে ইমার্জেন্সি নম্বরে কল করতে হবে অথবা দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে। কখন উপসর্গ লক্ষ্য করেছেন তা মনে রাখুন, কারণ জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা এ বিষয়ে জানতে চাইতে পারেন।
* স্ট্রোকের উপসর্গ নিশ্চিতকরণে ভিন্ন কৌশল : ফাস্ট ছাড়াও স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরেকটি সহজ কৌশল রয়েছে যার সঙ্গে ফাস্টের বেশ মিল রয়েছে। এ কৌশলটি হলো, স্ট্রোকের প্রথম তিন অক্ষর মনে রাখা (এসটিআর)। এই তিন অক্ষর যে শব্দগুলোকে নির্দেশ করে: এস দিয়ে স্মাইল (হাসতে বলা), টি দিয়ে টক (কথা বলতে বলা) এবং আর দিয়ে রেইজ বোথ আর্মস (উভয় বাহু ওপরে তুলতে বলা)। কেউ এ তিনটি কাজ করতে অক্ষম হলে জরুরি কলের জন্য ফোন হাতে নিন। তথ্যসূত্র : দ্য হেলদি