স্ত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কারাগারে

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২, ১:২৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ছেলের করা এক মামলায় রাজশাহীতে সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নুরুল ইসলামকে (৬১) গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে আরএমপির চন্দ্রিমা থানা পুলিশ চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরএমপির চন্দ্রিমা থানার ওসি এমরান হোসেন জানান, গত ৩০ মে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তার (৫৭) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর নুরুল ইসলামের ছেলে নাফিজ ইসলাম তার বাবার বিরুদ্ধে মায়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন চন্দ্রিমা থানায়। এ মামলার সূত্র ধরে পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে তার চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে নুরুল ইসলামের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলাম ১৯৮৮ সালে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। সর্বশেষ অতিরিক্ত উপকমিশনার হিসেবে রাজশাহী মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন শাখার দায়িত্বে ছিলেন। দুই বছর আগে অবসরে যান। নুরুল ইসলাম দম্পতির এক ছেলে এক মেয়ে রয়েছে।

সূত্রমতে, নুরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা আক্তারের বাবার বাড়ি রংপুরে। পুলিশে চাকরিকালীন নুরুল ইসলাম রংপুর শহরে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি করেন শ্বশুরের নামে। শ্বশুর কিছু দিন আগে মারা যান।

তবে শ্বশুরের মৃত্যুর পর এসব সম্পত্তি আর ফিরে পাননি নুরুল ইসলাম। এসব নিয়ে নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারের মধ্যে চরম কলহ বিবাদ চলছিল। এদিকে নুরুল ইসলাম অবসর নিয়ে চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকার ৪নং সড়কে একটি চারতলাবিশিষ্ট দুই ইউনিট বাড়ি নির্মাণ করেন।

সূত্রমতে, এই বাড়িটি নুরুল ইসলাম আগেই তার স্ত্রীর নামে লিখে দিয়েছিলেন। স¤প্রতি স্বামীকে না জানিয়ে স্ত্রী নাজমা আক্তার তার ছেলে ও মেয়ের নামে নুরুল ইসলামের শেষ সম্পদ এ বাড়িটি লিখে দেন। এ নিয়ে শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নতুন বিরোধ।

জানা গেছে, গত ৩০ মে নুরুল ইসলাম স্ত্রী নাজমা আক্তারের ঝগড়া-বিবাদ শুরু হলে স্ত্রীকে মারধর করেন তিনি। পরে নুরুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হয়ে মেয়ের বাসা নগরীর মহিষবাথানে যান। বিকালে মেয়ের বাড়ি থেকে ফিরে এসে তিনতলার একটি কক্ষে স্ত্রী নাজমা আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, নাজমা আক্তারের মরদেহের ময়নাতদন্তে শরীরে আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত হলেও ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা গেছে, সব সম্পত্তি হারিয়ে নুরুল ইসলাম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত থাকতেন। বাবা-মায়ের এ বিবাদে মেয়ে ও ছেলে মায়ের পক্ষাবলম্বন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ