স্থবির রাবি’র প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ।। একমাসেও নিয়োগ হয়নি উপাচার্য ও উপউপাচার্য

আপডেট: এপ্রিল ২২, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


উপাচার্য না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। অনুমোদনের অপেক্ষায় বন্ধ আছে অর্থনৈতিক সব ধরনের কর্মকাণ্ড। এছাড়া পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ ও পরীক্ষার ফল প্রকাশসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড থমকে আছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত উপাচার্য ও উপউপাচার্য নিয়োগ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের শীর্ষ দুটি পদ ফাঁকা থাকায় সঙ্কটে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতর থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালায়কে চিঠি দিয়ে বিষয়গুলো বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ একমাসেও উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাবিতে উপাচার্য নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিগগিরই এ নিয়োগ সম্পন্ন হবে। গত ১৯ মার্চ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন এবং উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদকাল শেষ হয়।
গত প্রশাসনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে উপাচার্য ও উপউপাচার্য নিয়োগ নিয়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হচ্ছে ক্যাম্পাসে। পদ প্রত্যাশিরা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে উপর মহলে জোর লবিং চালাচ্ছেন। উপাচার্য নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতার ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন অনেকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ও নাট্যব্যক্তিত্ব মলয় কুমার ভৌমিক বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকহীন থাকা একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পদ দুটিতে নিয়োগে দেরি হওয়ায় পদ প্রত্যাশির সংখ্যা বাড়ছে। তারা বিভিন্নভাবে গ্রুপিং-লবিং করছে। এটা শিক্ষকদের ও উপাচার্য পদের মর্যাদার জন্য ক্ষতিকর। অবিলম্বে এই সঙ্কটের অবসান হওয়া উচিত।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই পদ শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পরীক্ষার কমিটি গঠন, মূল সনদপত্র উত্তোলন, ভর্তি কার্যক্রম, ফিন্যান্স কমিটি, অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা, অন্যান্য আর্থিক খাত, বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনের অনুমোদন কাজ থমকে আছে। এতে করে অচলাবস্থা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
সঙ্কটে পড়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে দেশের বাইরের যাওয়ার জন্য যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তারা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় কোনোভাবে এসব কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের। এছাড়া উপাচার্য, উপউপাচার্য পদশূন্য থাকায় অন্য দফতরগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ বন্ধ। এভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। সব ক্ষেত্রে ভোগান্তি হচ্ছে, শীর্ষ দুই পদের পরে আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলে আমরা সব করতে পারি না, ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।’
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, দু-তিন দিনের মধ্যেই রাবির উপাচার্য, উপউপাচার্য নিয়োগ দেয়া হবে। এই দুই পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নাম প্রস্তাব করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করে উপাচার্য, উপউপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতনসহ নানা বিষয়ে সমস্যায় পড়ায় উপাচার্য, উপউপাচার্য নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।