স্পার বাঁধ ও খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হুমকির মুখে, বালু উত্তোলন চলছেই

আপডেট: জুলাই ১২, ২০২০, ২:০৫ অপরাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :


যমুনার উপর অত্যাচার থামছেই না সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর, স্থল ইউনিয়নে বালু দস্যুদের। যথাযথ পদক্ষেপ হীনতার কারনে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম পাড়ে ¯্রােত আঘাত হানায় এনায়েতপুর স্পার বাঁধ, তাঁত সমৃদ্ধ অঞ্চল, খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় এখন হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া এনায়েতপুরের বাক্ষ্মনগ্রাম হতে দক্ষিণে জালালপুর জুড়ে আবারো ভাঙ্গন তীব্রতর আকার ধারন করায় শংকিত হয়ে পড়েছে স্থানীয়রা। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতে ড্রেজার মালিকদের নামমাত্র অর্থদ- দেয়ার পর বালু উত্তোলন আরো প্রসারিত হয়েছে।
জানা যায়, চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর এবং স্থল ইউনিয়নের যমুনা নদী থেকে অন্তত ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র গত প্রায় ২৫/৩০ বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসার সাথে জড়িত। উপজেলা প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীদের সাথে যোগসাজোশে বছরে অর্ধশতাধিক কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অনেকের এ ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে হয়েছে। বর্তমানে এই বালু উত্তোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বালু দস্যুরা।
এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম শামীম হকের নেতৃত্বে এনায়েতপুরের মন্টু সরকার, এনায়েতপুর থানা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক শেখ হাফিজ, সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের মহেশপুরের মেম্বর লালমিয়া হোসেন, চাঁনপুরের আব্দুল রশিদ, ফজলুল হক ও রমজান আলীর নেতৃত্বে গত দু মাস আগে আনা হয়েছে সুবিশাল ৫টি ড্রেজার। এই ড্রেজার দিয়ে যমুনার মাঝ নদী সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের উড়াপাড়া, মৌহালী, ইজারাপাড়া, স্থল ইউনিয়নের সন্তোষা, পাশের শাহজাদপুর উপজেলার আড়কান্দি, ঘাটাবাড়ি, শক্তিধরপুর সহ আশাপাশের এলাকা থেকে দিনভর তোলা হচ্ছে বালু। প্রতিদিন গড়ে দেড় লক্ষাধিক ঘনফুট বালু তুলছে এখান থেকে। যা বিক্রি হচ্ছে নদীর পশ্চিম পাড়ের এনায়েতপুর ঘাটের দুটি স্থানে সহ বিভিন্ন এলাকায়। তবে পাউবোর সহযোগীতায় এনায়েতপুর স্পার বাঁধ সহ নদী শাসনের কাজে বালু ভর্তি জিও টেক্স ফেলতে বালু তোলার নাম করে বিক্রি হচ্ছে অন্যত্র। গত ২ সপ্তাহ আগে এই চক্রটি যমুনার সন্তোষা এলাকা থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি সহ এক লাখ টাকা জরিমানা করে। তখন জব্দ করা হয়নি ড্রেজার সহ আনলোড নৌকা। এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে আবারো দিনে ৫/৬ লাখ টাকার বালু যমুনার ওইসব এলাকা থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা শুরু করেছে চক্রটি।
বর্তমান নদীর মাঝ খানে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে পশ্চিম দিকে ধাবিত হচ্ছে। পানি আঘাত হানছে পশ্চিম পাড়ের এনায়েতপুর স্পার বাঁধ ও দেশের বৃহৎ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান খাজা ইউনুছ আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তীরে। যা বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।
এছাড়া একই কারণে প্রচ- ¯্রােতে এনায়েতপুরের বাক্ষ্মনগ্রাম, আরকান্দি, জালালপুরে ভাঙ্গন আরো তীব্রতর আকার ধারণ করছে। তাই আতংকিত হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। বাক্ষ্মনগ্রামের এলাহী হোসেন, আব্দুস সবুর, আরকান্দির মোকছেদ আলী, আবুল মিয়া জানান, অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে আমরা এখন নিঃস্ব প্রায়। বাকি কিছু জমি আছে সেগুলোও আর রক্ষা পাচ্ছে না। যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু কাটায় ¯্রােত বাড়াতেই এই অবস্থা। আমরা চাই দ্রুত ড্রেজার বন্ধ করা হোক।
যমুনা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম শামীম হক জানান, আমি এই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত না। নদী শাসনের কাজের নামে ঠিকাদারের যোগসাজোশে সদিয়াচাঁদপুরের ওইসব নেতারা বালু তুলে বিক্রি করছে। আমি নিজেও বাঁধা দিয়েছি, কাজ হয়নি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ হোসেন জানান, পাউবোর কাজের বাইরে যারা অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমেদ জানান, দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।