স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তথ্যের অবাধ প্রবাহ সুনিশ্চিত করতে হবে : বিভাগীয় কমিশনার

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


তথ্য পাওয়া জনগণের সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ্য পূর্বক বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। এটি তার সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার। জনগণকে বিদ্যমান আইনের আওতায় চাহিদা অনুযায়ী তথ্য প্রদান করতে হবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হলে রাষ্ট্রের সকল স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ না থাকলে সমাজে গুজব জন্ম নেয়। তথ্য অধিকার আইন কার্যকর বাস্তবায়নের ফলে দেশে দুর্নীতি হ্রাস ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস’- এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ্ বলেন, ১৯৭১ সালে ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই’ তখন থেকেই অধিকার শব্দটি আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ ২৪ বছর পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আমাদেরকে অধিকার বঞ্চিত করে রেখেছিল। এখন আমরা সব মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারছি। এখন এর সঙ্গে ডিজিটাল ও আধুনিক বাংলাদেশে তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রবর্তন করেছেন।

আমাদের তথ্য না দেয়ার ঔপনিবেশিক মানসিকতা দূর করতে হবে উল্লেখ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানে কি কি কাজ হয়, কি ধরনের সুযোগ-সুবিধা বা সেবা দিচ্ছে এসব বিষয়ে জানতে তথ্য অধিকার আইন নাগরিককে সহায়তা করছে। দিনকে দিন এই আইনের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনগণ এর সুফল পাওয়া শুরু করেছে। তাই তথ্য অধিকার আইন নাগরিকের তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিত ও শক্তিশালী করেছে।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ করে আমরা আটটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্য অফিসগুলো থেকে জনগুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। যদি কোনো অফিস তথ্য না দেয়, তা হলে সেটা এই আইনের অধীনে অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও তথ্য কমিশনে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সভায় জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এঁর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আরএমপি’র পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি রশীদুল হাসান, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।

তথ্য অধিকার আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্ৰী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. অলিউল আলম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ