স্বতন্ত্র পরিচয়ে ইউপি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী গোদাগাড়ী-তানোরের ১৬ ইউপির ১০টিতে প্রার্থী

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০২১, ১০:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না বিএনপি। কেউ নির্বাচনে অংশ নিলেও নেই বাঁধা। তবে ব্যবহার করতে পারবেন না দলীয় পরিচয় ও নেত্রীর ছবিও। ফলে স্বতন্ত্র পরিচয়ে মাঠে নামছে বিএনপির নেতারা। রাজশাহীর তানোর ও গোদাগাড়ীর ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ঘোষণা এসেছে। এরি মধ্যে বিএনপির ১০ নেতা নিজের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২০ অক্টোবর।

জানা গেছে, তানোর ও গোদাগাড়ীর ১৬টি ইউপিতে আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন। এদিন তানোরে ৭টি ও গোদাগাড়ী ৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুই উপজেলার ১৬টি ইউপির মধ্যে ১০টিতে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থকরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এই নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে তানোরের ছয়টি ও গোদাগাড়ীর চারটিতে বিএনপির সমর্থকরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

উপজেলা প্রতিনিধিদের সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন তানোরে সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে কলমা ইউনিয়নে থানা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক, বাধাইড়ে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও সাবেক সহসভাপতি কামরুজ্জামান, সরনজাই ইউনিয়নে থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোজাম্মেল হক খান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, চান্দুড়িয়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাহফুজুর রহমান। এছাড়া কামারগাঁ ইউনিয়নের থানা যুবদলের সদস্য আলমগীর হোসেন ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং পাঁচন্দর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোমিনুল হক।

বাধাইড় ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জনগণ পাশে থাকলেই তিনি নির্বাচনে থাকবেন। তিনি বলেন, দলে তো আর নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। এখন ব্যক্তি ইমেজেই নির্বাচন করতে হবে। সেই প্রস্তুতিই তিনি নিচ্ছেন।

এদিকে, গোদাগাড়ীর ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে বিএনপির সমর্থকরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে বাসুদেবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাবিবুর রহমান, মোহনপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা হোসেন, দেওপাড়া ইউনিয়নে থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন এবং পাকড়ী ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আনারুল ইসলাম মনোনয়নপত্র ফরম সংগ্রহ করেছেন।

তানোর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, এ নির্বাচন কমিশনারের অধীনে কোনো নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। এ জন্য দল নির্বাচন করছে না। বিএনপির প্রার্থীকে মানুষ ভোট দিতে চাইলেও দিতে পারছে না। আবার কোথাও বিএনপির প্রার্থী ভোটে পাস করলেও কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য দলের কেউ নির্বাচন করলে নিজ দায়িত্বে করছেন।

রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও আহ্বায়ক সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন জানান, ‘বিএনপির কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আছে ইউপি নির্বাচনে তারা প্রার্থী দেবে না। তবে বিএনপির কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারবেন। ভোটে অংশগ্রহণে কোন বাধা নেই। তবে মিলবে না দলীয় প্রতিক। নিজেকে নিজের পরিচয়ে নির্বাচন করতে হবে। কেউ যদি পাসও করে বিএনপি কখনও দাবি করবে না।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ