স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিশাল জনসমাবেশ ক্লান্তিহীন অভিযাত্রীর নাম জননেত্রী শেখ হাসিনা

আপডেট: মে ১৮, ২০২২, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা না থাকলে হয়তো বাংলাদেশ মায়ানমারের মতো সেনাবাহিনী শাসিত কোনো দেশ হতো। মায়ানমার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি সম্পদ থাকার পরও ভঙ্গুর দেশে পরিণত হয়েছে নেতৃত্বের কারণে।

আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলে থাকেন, ঘুমের আগে মাইল মাইল যেতে চাই। অর্থাৎ তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে যান। ৭৬ বছর বয়সেও তার শরীরে ক্লান্তি নেই।

মানুষের জন্য ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এক ক্লান্তিহীন অভিযাত্রীর নাম শেখ হাসিনা। যতক্ষণ জননেত্রী শেখ হাসিনা আছেন ততক্ষণ ভয় নেই। জাতির জন্য সঠিক সময়ের আলোর যাত্রী তিনি। আলোকবর্তিকা হয়ে জাতিকে পথ দেখাচ্ছেন। তিনি নেতৃত্বে থাকলে এ জাতি কখনো পথ হারাবে না।

নগরীতে মঙ্গলবার (১৭ মে) বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পদচারণায় এই সমাবেশস্থল কাণায় কাণায় পূর্ণ ছিলো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৭ মে যখন বিমান থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে নেমেছিলেন, তখন বলেছিলেন, আজকে সামনে অনেককেই দেখছি। কিন্তু আমার পিতা, আমার মা, আমার ভাইকে আর দেখতে পাব না। শুধু দেখবো বাংলার জনগণ। আমার পিতা বাঙালির মুখে হাসি ফুটানোর যে স্বপ্ন দেখেছেন তা বাস্তবায়নে আমি প্রাণ দিয়ে হলেও লড়াই করে যাব।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে প্রবেশ করেই ৩৫ মিনিট ধরে বিমানে করে পুরো বাংলাদেশ উপর থেকে দেখেছেন। বাংলার পথে পথে, গ্রামে গ্রামে, জেলায় জেলায় ঘুরে দেখা এমন নেত্রী কোথায় পাব। তিনি গ্রামের কোথায় তার কর্মী আছে সেটাও জানেন। এমন জনমানুষের নেত্রী আর পাওয়া যাবে না।

বাংলার মানুষ শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে। বাংলার মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে ভালোবাসে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্য ঝড়-ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে বাংলার মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলো। সেদিন তারা স্লোগান দিয়েছিলো-‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’। ‘শেখ হাসিনা এসেছে আবারও জেগে উঠবে বাংলাদেশ’। আমরাও বলতে চাই ‘শেখ হাসিনা ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’। আপনার নেতৃত্বেই দেশ এগিয়ে যাবে।

জিয়াউর রহমানের তীব্র সমালোচনা করে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, গণতন্ত্রের হত্যাকারী স্বৈরাচার জিয়াউর রহমান খুনি মোস্তাককে সঙ্গে নিয়ে ক্যাবিনেট গঠন করে আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছিলো। সে পাকিস্তানিদের দালাল মৌলবাদীদের যারা বাংলাদেশকে পেয়ারা পাকিস্তান বানাতে চাই তাদের রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছেন।

বাঙালির গণতন্ত্রকে কেড়ে নিয়ে শোষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনকে জায়গা করে দিয়েছেন। তার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয় নি। আর কখনো হবেও না। বাংলার মানুষ মেনে নিবে না।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের প্রশংসা করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, বিএনপি’র আমলে বিদ্যুৎ ছিলো না। কৃষক-শ্রমিকরা হতাশ হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু যে কোনো দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছেন। আমাদের ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়েছেন। যা আমাদের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনো ব্যর্থ ছিলো না। ব্যর্থ হয় নি। ব্যর্থ বিএনপি। আজ তেলের দাম বাড়লে যারা ইস্যু খুঁজে বেড়ান তারা বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর মতো না।

যে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা না থাকলেও ঋণের বোঝা বাড়াবে। বাংলাদেশ এখনো ঋণ পরিশোধের গ্রিন সিগনালে আছে। ইয়োলোও হয় নি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর- আপনি নিজেকে সব জান্তা মনে করেন। আপনাই সব জানেন। আর কেউ কিছু জানে না!

বক্তব্যের শেষে তিনি ‘বাটার মোড়’ হিসেবে পরিচিত জনসামাবেশ স্থলের চত্বরকে ‘জয় বাংলা চত্বর’ হিসেবে নামকরণ করেন।
রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে এই জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল।

বিশাল এই জনসমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বকালের সর্বশেষ্ঠ বাঙালি, যিনি বাঙালিকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন তাকেসহ তার পরিবাররের ১৮ জন সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিনই বাঙালির গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়। হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধুর আজীবন সাথী জাতীয় চার নেতাকে। সেদিন বন্দুক ঠেকিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিলো জিয়াউর রহমান।

সাড়ে ৪ লাখ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হত্যা ও নির্যাতন করে স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে নিয়ে দল গঠন করে। জিয়ার অন্ধকার ও দুঃশাসন থেকে মুক্তির জন্য যখন বাংলার মানুষ সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থণা করছিলো সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোকবর্তিকা হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। সে দিন শেখ হাসিনা এসেছিলো বলেই দেশ উন্নত হয়েছে।

যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার হয়েছে। জিয়ার শোষণ-বঞ্চনার অবসান হয়েছে। শেষ হাসিনা এসেছিলেন বলেই, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ হয়েছে। সমুদ্র জয় হয়েছে। মাথাপিছু আয় ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে। কিন্তু আজও দেশ বিরোধীরা ষড়যন্ত্রে মেতেছে। ২১ বার শেখ হাসিনাকে হত্যা করার চেষ্টা করেও ওরা ক্ষান্ত হয় নি।

কারণ ওরা জানে শেখ হাসিনা থাকলে, বাংলাদেশ পাকিস্তানিদের বাংলাদেশ, খুনিদের বাংলাদেশ হবে না। এসময় তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, পাড়ায় পাড়ায় জনগনের অংশগ্রহনের মাধ্যমে কমিটি করে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করে বিএপির-জামাতের অপপ্রচারকারী দেশ বিরোধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক পিন্টুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন,
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ১৫ আগস্ট সংঘঠিত হওয়ার দীর্ঘ ৬ বছর শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারে নি।

যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরেছিলেন সেদিন লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ ঝড়-ঝঞ্ঝা মাড়িয়ে তাকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন। তিনিও জনগনের মাঝে ছুটে গিয়ে বলেছিলেন, এই জনগনের মাঝে আমার পিতাকে খুঁজে পাই, ছোট ভাই রাসেলকে খুঁজে পাই। সেদিন দেশের মানুষের উন্নয়নের দর্শন নিয়ে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নি। আগামী ২৩ সালের নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জয়কে রুখা যাবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৫ আসনের সাংসদ (পুঠিয়া-দূর্গাপুর) ডা. মনসুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে এদেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করা হয়। আজকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মধ্যমায়ের উন্নয়নের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য আপনারা দোয়া করবেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আনিকা ফারিহা জামান অর্ণা বলেন, সকলের আলোকবর্তিকা হয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসেছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে ২০২২ এর মধ্যে নানা ত্যাগ তিতিক্ষা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আধুনিক বাংলাদেশ তৈরি করেছেন শেখ হাসিনা।

সেই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসেছিলেন বলেই আমরা এতো সুন্দর দেশ পেয়েছি। তিনি বাংলাদেশের মা। তিনি ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো।

জনসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের সহ-সভাপতি আদিবা আনজুম মিতা। বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা ছাত্রলীগ, মহানগর ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতারা।

এদিন দুপুর সাড়ে তিনটা থেকেই একেরপর এক মিছিল এসে সমাবেশে মিলিত হয়। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে বিশাল মিছিল সমাবেশে অংশ নেয়। নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ স্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

 

জনসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য বেগম আখতার জাহান, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাবু অনিল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক (সাবেক এমপি) আব্দুল ওয়াদুদ দারা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা জিনাতুন নেসা তালুকদার প্রমুখ।

জনসমাবেশে যে কোন মূল্যে আওয়ামী লীগ সরকারকে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।