স্বপ্নপূরণে রাবি শিক্ষার্থীর পাশে লন্ডনপ্রবাসী

আপডেট: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষায় ‘ডি’ ইউনিটে মেধা তালিকায় ২৩তম স্থান অর্জন করেও আর্থিক অনাটনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছিল সুমন আহমেদের। খোঁজ পেয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপার শহীদ শাহ্ এর ছেলে অদম্য মেধাবী সুমনের দুঃখগাঁথা জীবনের চিত্র গণমাধ্যমে তুলে আনেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক মাহমুদ জুয়েল।
গত ২৭ নভেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘রাবিতে চান্স পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না সুমন’ এমন শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি চোখে পড়ে রাবির ইন্সিটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আবিএ) অধ্যাপক হাছানাত আলীর। নিজে ফেসবুকে সংবাদটি শেয়ার করে শুভাকাঙ্খীদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
পরে সংবাদটি দেখে লন্ডন প্রবাসী রাবির আইবিএ- এর প্রাক্তণ শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সুমনের ভর্তির জন্য অধ্যাপক হাছানাত আলী মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠান। সুমনের ব্যয়ভার পরবর্তীতেও বহন করার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে সুমনকে চেক হস্তান্তর করেন অধ্যাপক হাছানাত।
এসময় রোমেন প্লাস নামে একটি কোচিং সেন্টারও তার পাশে থাকার ঘোষণা দেন। উপস্থিত আইবিএ-এর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অদম্য মেধাবী সুমনের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক হাছানাত আলী, আইবিএ-এর কর্মকর্তা সারওয়ার শাহীন, এটিএম তৌহিদুর রহমান, এনটিভির রাজশাহী ব্যুরো প্রধান স. ম সাজু, রাবি সাংবাদিক সমিতির সহ-সভাপতি হাসান আদিব, রাবি প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ রায়হান বাপ্পী, ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিক সুজন আলী, মুজাহিদ শাহিন প্রমূখ।
আইবিএ সূত্র জানায়, এখানে পড়তে একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত খরচ বাদে আইবিএস প্রশাসনকে মোট ৮২ হাজার টাকা দিতে হবে। ৮ সেমিস্টারের মধ্যে প্রথম ও অষ্টম সেমিস্টারে ১৪ হাজার করে ২৮ হাজার এবং বাকি ছয় সেমিস্টারে ৯ হাজার করে ৫৪ হাজার টাকা দিতে হবে।
জানতে চাইলে সুমন বলেন, আমি লেখাপড়া করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। কিন্তু আর্থিক অনাটন আমাকে আষ্টেপিষ্ট্যে আছে। শিক্ষক, সাংবাদিকসহ অন্যরা আমার জন্য অনেক সাহায্য করছেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত খরচের বাইরে আইবিএ-তে অতিরিক্ত ফিস লাগছে। যদি আইবিএ কর্তৃপক্ষ আমার ফিস পুরোটা মওকুফ করতেন, তবে আমি লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারতাম।