স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হুশিয়ারী সবপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা দরকার

আপডেট: মে ২২, ২০২২, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ

ধর্ম সব সময়ই অতিসংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর বিষয়। সব ধর্মের ক্ষেত্রেই বিষয়টি একই রকমের। ধর্মাম্বলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মের অবস্থান থেকে তার ধর্মমতই শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করে। এখানে বিশ্বাসটাই মূল, যুক্তি নেহাতই অসাড়। আধ্যাত্মিক শক্তি উৎসও এই বিশ্বাসের মধ্যে অন্তর্নিহিত। ফলে ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের সমালোচনা অনেক ধর্মের কাছেই ক্ষমাযোগ্য নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এও লক্ষ্য করা যায় যে ব্যক্তিও কখনো কখনো ধর্মের সমান্তরাল হয়ে ওঠতে চায়। ব্যক্তির সমালোচনা কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সেটা ধর্মের অবমাননার সাথে মিলিয়ে দেখা হয়, দেখানো হয়। ফলে এক ধরনের অস্থিরতাও দেখা দেয়। কিন্তু অভিযোগ চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়- সেটা প্রমাণ করতে হয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে। আর প্রমাণে ব্যর্থ হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিই প্রশংসিত হয়, তিনি সাধারণ মানুষের কাছে আরো সম্মানিত মানুষরূপে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু সবক্ষেত্রে এ ধরনের বুদ্ধি বিবেচনা কাজ করে না। সহিষ্ণুতার অভাব দেখা দেয়।
সম্প্রতি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গঠিত গণকমিশনের একটি প্রতিবেদন নিয়ে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। গণকমিশন বছরব্যাপি তদন্ত চালিয়ে দেশের ১১৬ জন আলেম-ওলামা এবং এক হাজার মাদ্রাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও এ বিষয়ে সুপারিশও করেছেন। গণকমিশনের প্রতিবেদনে আলেম-ওলামাদের যাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাঁরা ওয়াজ মাহফিলের নামে ব্যবসা করে চলেছেন। তাদের বক্তব্য উস্কানিমূলক যাতে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হতে পারে। এতেই ক্ষেপেছেন অভিযুক্ত আলেম-ওলামারা। তারা এটিকে নাস্তিদের ধর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান বলে দাবি জানাচ্ছেন। কেউ কেউ তদন্ত কমকর্তাদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অশালীন বক্তব্যও রাখছেন। যা পরিস্থিতিকে ক্রমশ উত্তপ্ত করে তুলছে।
বিষয়টি এখন গণকমিশন ও অভিযুক্ত আলেম-ওলামাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল ঘটলার ফায়দা নিতে উঠেপড়ে লেগেছে। ঘটনা-প্রবাহকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির প্রাণান্তক চেষ্টাও অব্যাহত আছে। শেষ পর্যন্ত সরকার এ ব্যাপারটি খোলাসা করেছে। ফলে যারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে পটুতা দেখাতে চেয়েছিল তারা যে কিছুটা হোচট খেল সেটা বলাই যায়। শুক্রবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টতই বলেছেন, গণকমিশনের কোনো ভিত্তি নেই। গণকমিশনের নামে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অর্থাৎ গণকমিশনের সাথে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর নিশ্চয় বিষয়টি বাড়াবাড়ি করার আর সুযোগ থাকে না। বর্তমানে বিশ্ব নানারূপ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার আঁচ বাংলাদেশেও পড়েছে। এ সময় দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। নিশ্চয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কারো জন্যই কল্যাণ বয়ে আনে না। সবাইকে বিষয়টি বুঝতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ