স্বস্তির জয় সোহানদের

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ


সোনার দেশ ডেস্ক :


প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে একবার সলতেটা দপ করে জ্বলে উঠে। দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থা হয়েছিল ঠিক তেমনই। বাংলাদেশকে প্রায় হারের শঙ্কায় ফেলে দিলেও শেষ পর্যন্ত ৭ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে নুরুল হাসান সোহানরা।

ব্যাট হাতে শুরুতে আলো ছড়ান আফিফ হোসেন। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৫৮ রান তোলার পর বোলিং-ফিল্ডিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে চেপে ধরতে অবদান রাখলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার পরেও জয়টা হয়ে থাকলো কষ্টার্জিত। কিন্তু জুলাইয়ের পর এই ফরম্যাটে জিততে না পারা বাংলাদেশের কাছে এই জয়টা পরম স্বস্তির। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের কাছে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জয়ের পর থেকে শুরু করে এশিয়া কাপ পর্যন্ত পরাজয়-ই হয়েছে সঙ্গী।

১৭তম ওভারের পর স্বাগতিকদের স্কোর ছিল ৮ উইকেটে ১২৪। সেখান থেকে ১৮তম ওভারে ১৪ রান তোলার পর শেষ দুই ওভারে তাদের প্রয়োজন পড়ে ২১ রান! ১৯ তম ওভারে ১০ রান তুলে শেষটা আরও রোমাঞ্চকর করে তুলে স্বাগতিক দল।

কিন্তু শরিফুল দুই উইকেট তুলে ইনিংসের চূড়ান্ত সমাপ্তি টেনে দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু আর দেখতে হয়নি। প্রথমে ফেরান ম্যাচটা শেষ ওভার পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা আফজাল খানকে। তিনি ১৭ বলে ২৫ রান করেছেন। তার পর জুনায়েদকে বিদায় দিলে ১৯.৪ ওভারে ১৫১ রানেই শেষ হয় আরব আমিরাতের ইনিংস।

১৫৯ রান তাড়ায় শুরুটা ভালো ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের। ৪ ওভারে বিনা উইকেটে তোলে ২৭ রান। পঞ্চম ওভারে ওপেনিং জুটি ভাঙে ওয়াসিমের বিদায়ে অদ্ভুত রান আউটে।

তার পরেও স্বাগতিকদের সমস্যা হচ্ছিল না। স্কোরবোর্ড সচল রেখেছিলেন সুরি। দ্রæত ব্যাট চালিয়ে রান তুলে নিচ্ছিলেন। ২৪ বলে ৩৯ রান করা এই ব্যাটারকে অষ্টম ওভারে স্টাম্পড করান মিরাজ। সুরির ইনিংসে ছিল ৭টি চার। ঠিক এই উইকেটের পতনের পরেই দৃশ্যপট বদলাতে থাকে স্বাগতিকদের। উইকেট পড়তে থাকে নিয়মিত।

নতুন নামা আয়ান লাকরা অস্বস্তি তৈরি করেছিলেন। তাকে মাথা ব্যথার কারণ হতে দেননি মিরাজ। আবার আক্রমণে এসে দশম ওভারে তালুবন্দি করিয়েছেন। লাকরা ১৫ বলে ১৯ রান করেছেন।

লাকরার বিদায়ের পর অধিনায়ক রিজওয়ান হাত খোলার বার্তাই দিচ্ছিলেন। এমন সময় তাকে সাজঘরে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন মোস্তাফিজ। তার দারুণ ডেলিভারিতে এই উইকেটের জন্য মিরাজের অসাধারণ ফিল্ডিংও কৃতিত্বের দারি রাখে। রিজওয়ান ফেরেন ৫ রানে।

এর পর ধীরে ধীরে কক্ষপথ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে স্বাগতিক দল। বাসিল হামিদকে ফিরিয়ে পঞ্চম উইকেট তুলে নেন শরিফুল। মেহেদী হাসান মিরাজ অরবিন্দকে অসাধারণ এক ক্যাচে নিজেই তালুবন্দি করলে মনে হতে থাকে পরাজয় সুনিশ্চিত আমিরাতের।

অরবিন্দ ১৬ রান করেছেন। কিন্তু ফরিদ আউট হওয়ার পরও ম্যাচটার মোড় ঘুরতে থাকে বাংলাদেশের বাজে ফিল্ডিং ও ক্যাচ মিসের কল্যাণে। যে সুযোগটা ভালোই কাজে লাগিয়েছিলেন আফজাল খান। শেষ পর্যন্ত সফল হননি যদিও।

মিরাজ ৩ ওভারে ১৭ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। শরিফুলও ৩.৪ ওভারে নিয়েছেন তিনটি। ৩১ রানে দুটি নিয়েছেন মোস্তাফিজ।
এর আগে আফিফ হোসেনের ঝড়ো ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৫৮ রান করে বাংলাদেশ। শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল স্বাগতিক দল।

দুবাইয়ে এই ম্যাচ দিয়ে ফিরেছেন নুরুল হাসান সোহান, ইয়াসির আলী ও লিটস দাস। চোটের কারণে তারা এশিয়া কাপে খেলতে পারেননি। তাদের ফেরাটা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জয়েই রাঙালো।

অবশ্য পাওয়ার প্লেতে তিন উইকেট হারানো দলটির ৭৭ রানে পড়ে গিয়েছিল পঞ্চম উইকেট। তখন চলছিল ১১তম ওভার। পরে স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ হয়েছে আফিফ হোসেন ও অধিনায়ক নুরুল হাসান জুটির ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কল্যাণে। শেষ ৫ ওভারে এই জুটি তুলেছে ৫৫ রান! আফিফ সুযোগ পেলেই বাউন্ডারিতে রান তুলেছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন নুরুল

। অবশ্য আফিফের তৃতীয় ফিফটিতে ছিল ভাগ্যের ছোঁয়া। দুইবার জীবন পেয়েছেন। একবার শুরুতে ২ রানে এবং শেষ দিকে ৬২ রানে। শেষ পর্যন্ত আফিফ ৫৫ বলে ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস। তাতে ছিল ৭টি চার ও ৩টি ছয়ের মার। ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। নুরুল হাসান ২৫ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৩৫ রানে।

শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দারুণ বোলিংয়ে পাওয়ার প্লে ভালো মতো কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং তিন উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ৪২ রান। দুবাইয়ের স্লোপিচে বাজে শট সিলেকশনই ছিল মূল কারণ। ঝুঁকি নিতে গিয়ে দ্বিতীয় ওভারে ফিরতে পারতেন সাব্বির। ভাগ্যভালো এর বদলে ‘বাই’ পেয়ে সেটি হয়ে যায় বাউন্ডারি। তৃতীয় বলে অবশ্য আর শেষ রক্ষা হয়নি। সাবির আলীর বল উঠিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ হন বাসিল হামিদের। তাও আবার রানের খাতা না খুলে। তাতে দ্বিতীয় ওভারে পড়ে বাংলাদেশের প্রথম উইকেট।

নতুন নামা লিটন দাস বাউন্ডারি মেরে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেন দ্রুতই। কিন্তু বাজে শট সিলেকশনে বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি ইনিংস। আয়ান আফজাল খানের ঘূর্ণিতে টপ এজ হয়ে ৮ বলে ১৩ রানেই তালুবন্দি হয়েছেন। মিরাজ ওপেনিংয়ে নামলেও কার্যকরী কিছু করে দেখাতে পারেননি। বরং বাজে শট সিলেকশনের বলি হতে হয় তাকেও। পেসার ফরিদের শর্ট বল এগিয়ে এসে পুল করতে চাইলে ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়ে বোলারের হাতেই। ১৪ বলে মিরাজ করতে পারেন ১২ রান।

ষষ্ঠ ওভারে ফিরতে পারতেন আফিফও। কিন্তু বাউন্ডারি লাইনে তার ক্যাচ নিতে পারেননি স্বাগতিক ফিল্ডার। তাতে আফিফ-ইয়াসিরের ইনিংস মেরামতের সম্ভাবনা জাগলেও অষ্টম ওভারে এর ইতি টানেন লেগস্পিনার মেয়াপ্পান। তিনি বোলিংয়ে আসতেই বোল্ড করেন ইয়াসির আলীকে (৪)। চাপে পড়ে যাওয়া মুহূর্তেই হাল ধরেন জীবন পাওয়া আফিফ।

মোসাদ্দেক সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তাকে বাইরে এসে খেলতে প্রলুব্ধ করে স্টাম্পড করিয়েছেন মেয়াপ্পান। ৮ বল খেলা মোসাদ্দেক করতে পারেন ৩ রান। স্বীকৃত শেষ ব্যাটার হিসেবে সোহান যখন নামলেন, ঠিক তখনই মহাগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটা পালন করলেন তিনি। আফিফের সঙ্গী হয়ে স্কোরবোর্ড সচলে রাখেন কার্যকরী ভূমিকা। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আসে সর্বোচ্চ ৮১ রান।
আরব আমিরাতের হয়ে ৩৩ রানে দুটি নেন লেগস্পিনার মেয়াপ্পান। একটি করে নিয়েছেন সাবির, আয়ান ও ফরিদ।- বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ