স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সফল হোক

আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০২০, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ, ১৪২৭ সন। বাংলা নববর্ষ বাঙালি জাতির এক মহান উৎসব। ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে এক হয় বর্ষবরণের উৎসব-আয়োজনে। রঙে-আনন্দে, উচ্ছ্বলতায়, আবেগাপ্লুতায়, চিন্তা ও ভাষায় উদ্ভাসিত হয় চারদিক, আনন্দ আলোয় ভরে উঠে সারা দেশ। এই দিনে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়, বিশ্ব মানুষে নিজেদের পরিচয় ঘোষিত হয়- শান্তি, ঐক্য, প্রেম-ভালবাসা, পরম ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দের। পহেলা বৈশাখ বিশ্ব মানবতার সমর্থনে শপথেরও দিন। বিশ্বের অন্য নববর্ষের চেয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের এখানেই পার্থক্য, চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা।
কিন্তু এবারের নববর্ষ ভিন্ন মাত্রায় জাতীয় জীবনে প্রবেশ করেছে। এখন চারিদিকে বিপদের ঘনঘটা। করোনাভাইরাস নামের এক দানব পৃথিবীর মানব জাতির উপর হামলে পড়েছে। বাংলাদেশও এ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। মরণঘাতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জাতি এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এখন সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, নিজেকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ রাখা। সারা দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে। দেশের মানুষ উদ্বেগ্ন। এই পরিস্থিতিতে বাংলা নববর্ষের সব ধরনের উৎসব স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলা নববর্ষ বাঙালির চেতনায়- অনুভবে ঠিকই সাহস ও শক্তি যোগাবে। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের বিজয় নিশ্চিত হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাঙালির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেরও পথনির্দেশক নববর্ষ। সেই শপথের ইস্পাত কঠিন ঐক্য থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্পর্ধিত অভ্যুদয়। বাংলা নববর্ষের ভেতরের শক্তিকে তাই ভয় পায়- বিবরবাসী সাম্প্রদায়িক শক্তি। তাদের কাছে অত্যন্ত অপছন্দের ব্যাপার এটি। তারা আনন্দ-আলো, জ্ঞান গরিমা, সত্য ও সুন্দরকে ভয় পায়, নারীকে ভয় পায়, সর্বোপরি মানুষের মিলন-ঐক্যকে ভয় পায়। এই শক্তির ঐক্যই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জাতির লড়াই সফলতা লাভ করবে সুনিশ্চয়।
বাংলা নববর্ষ এক অবিনাশী চেতনার প্রদীপ্ত অগ্নিশিখা। একে নেভান যায় না, যায়নি, যাবে না কোনো দিন। যারা এই আগুনকে নেভাতে চায়, তারাই বার বার পুড়ে মরেছে। আবহমানকাল ধরে এই অগ্নিধারায় স্নান করে যে বাঙলি জাতি শুচি-শুভ্র হয়েছে সে তো আগুনেরই সন্তান। সে জাতির ললাটে কলঙ্কটিকা আঁকে কার সাধ্য! তাইতো বাঙালির এই সংস্কৃতি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যেরও অংশ হয়ে গেছে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে। বাঙালির সংস্কৃতি তাইÑ যা বিকশিত হয় বিশ্ব ব্যাপিয়া।
এবারের বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মধ্যে এই শপথই দৃঢ় হোক- ‘আমরা ঘরে থাকবো, করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হবো।’ অতি প্রয়োজনে বাড়ির বাহির হলে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবো এবং করোনা প্রতিরোধে যে স্বাস্থ্য পরামর্শ ঘোষিত হচ্ছে সেগুলো যথার্থ মেনে চলবো। নতুন বছর সকল জরা ও গ্লানি মুছে দিয়ে, করোনাভাইরাসের আগ্রাসন রুখে দেয়ার নবতর সংগ্রামের শপথে ঐক্যবদ্ধ বাঙালির জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ বয়ে আনুক এটাই প্রত্যাশা।
বাংলা নববর্ষ-১৪২৭ সবার জন্য শুভ হোক, কল্যাণকর হোক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ